জামালপুর জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর চাকরি করেন ময়মনসিংহে বসে

জামালপুর জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর চাকরি করেন ময়মনসিংহে বসে

ফন্ট সাইজ:

জামালপুর সিভিল সার্জন অফিসের জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ফরিদা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি নিজ বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে জামালপুর জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহে দু’-তিনদিন অফিসে আসলেও দায়িত্ব পালন না করেই শুধু হাজিরা সাক্ষর করে দায়িত্ব অন্য স্টাফের ওপর ন্যস্ত করে চলে যান। জানা যায়, ইয়াসমিন গত বছরের ১৯শে নভেম্বর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলা থেকে জামালপুর জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি অন্যান্য স্টাফদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এসব ঘটনায় তাকে অপসারণের দাবি জানিয়ে ৭ উপজেলার স্যনেটারি ইন্সপেক্টররা সিভিল সার্জন ও মহাপরিচালক বরাবর গত ১৯ ও ২০শে এপ্রিল দু’টি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে ও সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১৯শে মে মেলান্দহ উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর রাবেয়া বেগম তার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন বরাবর একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগে তার সঙ্গে প্রকাশ্যে অশোভন আচরণ করার অভিযোগ তোলেন তিনি। যা চাকরির নিয়ম বহির্ভূত বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়াও সরকারি নিয়ম না মেনে ও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে দেখা যায়, তিনি চলতি বছরের ১২ই মে তিনদিনের ছুটির আবেদন জমা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

তারপর আর আসেননি। হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ১৩ই এপ্রিল থেকে গত ২১শে মে পর্যন্ত হাজিরা খাতায় কোনো স্বাক্ষর নেই। এ ছাড়াও সকল অফিস আদালতে ডিজিটাল হাজিরা বায়েমেট্রিক পদ্ধতি চালু থাকলেও রহস্যজনকভাবে তিনি তা করেন না। সপ্তাহে দু’-তিনদিন অফিস করেন, সেটাও তার ফুলবাড়িয়া নিজ বাড়ি থেকে এসে। অভিযোগপত্রে আরও জানা যায়, তিনি দুই-তিন ঘণ্টা অফিস করে সিভিল সার্জন অফিসের হেল্‌থ সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুর রহমান নামে একজন স্টাফের কাছে দায়িত্বভার দিয়ে চলে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের কয়েকজন স্টাফ জানান, যোগদানের পর থেকেই তিনি এভাবেই চাকরি করছেন। এ ব্যাপারে ফরিদা ইয়াসমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন আমি কিছু বলতে চাই না, আগে অফিসে যাই। তবে তার মেয়ের এসএসসি পরীক্ষার জন্য ছুটি নিয়েছেন বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হক মিটিংয়ে থাকায় পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরে তার মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন