২৪৬ টাকায় পশুর হাটের ইজারা!

সো না ই মু ড়ী

২৪৬ টাকায় পশুর হাটের ইজারা!

ফন্ট সাইজ:

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২২টি অস্থায়ী পশুর হাটের দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে সাতটি হাটের সরকারি ইজারা মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ২৪৬ থেকে ৬০৬ টাকা। যেখানে একটি গরু বিক্রি হলেই সরকারি টোল আসে ৫০০-৭০০ টাকা, সেখানে পুরো হাটের সরকারি মূল্য একটি গরুর হাসিলের চেয়েও কম। এতে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহলের সিন্ডিকেট ও অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের ২০২৬ সালের দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, সোনাপুর বাজার সংলগ্ন হাটের সর্বনিম্ন দর মাত্র ২৪৬ টাকা।

এ ছাড়া, আমিন বাজার ঈদগাহ, ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও মোরশেদ আলম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন হাটের দর ধরা হয়েছে ৩৫২ টাকা। সাহারপাড় হনুফা বাজার ৫২২ টাকা, কালিকাপুর বাজার ৬০৩ টাকা এবং শান্তির হাট বাজারের সরকারি দর মাত্র ৬০৬ টাকা। অথচ নিয়মানুযায়ী, প্রতিটি হাটের ইজারা নিতে অফেরতযোগ্য শিডিউল মূল্যই নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। ‘হাট ও বাজার বিধিমালা’ অনুযায়ী, বিগত তিন বছরের গড় মূল্যের সঙ্গে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ করে সরকারি দর নির্ধারণের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রশাসন এই নিয়ম লঙ্ঘন করে মনগড়া দর বসিয়েছে। যেমন, মোরশেদ আলম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন হাটের গত বছরের সরকারি দর ছিল ১,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ডাক উঠেছিল ২,০২০ টাকা।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এবার সর্বনিম্ন দর ৭১৩.৭৩ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও ধরা হয়েছে মাত্র ৩৫২ টাকা। একইভাবে ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হাটের গত বছরের সরকারি দর ১,৪০০ টাকা থেকে কমিয়ে এবার ৩৫২ টাকা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সুবিধার্থে এসব হাট পরিচালিত হলেও সরকারি খাতায় কোনো রাজস্ব ওঠেনি।

এমনকি ইজারা না হওয়া হাটগুলো থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাস আদায়ের কোনো নজির নেই। এ বিষয়ে হাট-বাজার দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, এই মূল্য উপর থেকে নির্ধারণ হয়ে আসে। অন্যদিকে, সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছরিন আকতার মানবজমিনকে জানান, বিগত তিন বছরের সর্বোচ্চ দরের গড় হিসাব করেই বর্তমান দর নির্ধারিত হয়েছে এবং ইজারা না হলে খাস আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিগত ২০২৩ ও ২০২৪ সালে মোরশেদ আলম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন হাট চললেও সরকারি খাতায় কেন আয়শূন্য দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি পূর্বতন প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন