সাভারে একদিনের ব্যবধানে পৃথকস্থানে দুই শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসীরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। গত বুধবার দুপুরে বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের মুদি দোকানে এবং বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী পাঁচগাছিয়া মহল্লার একটি ভাড়া বাসায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ জানায়, সাভারের আমিন বাজার ইউনিয়নের পাঁচগাছিয়া মহল্লায় প্রতিবেশী ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাক (৬৯) নামে এক বৃদ্ধকে আটক করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করে আমিন বাজার ফাঁড়ি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ধর্ষক আব্দুর রাজ্জাক (৬৯) পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার কেশবপুর বাজেমহল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। ভুক্তভোগী শিশু এবং অভিযুক্ত ধর্ষক আমিন বাজারের বিনোদ বাড়ি মহল্লার জহিরের বাড়ির ভাড়াটিয়া। আমিন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে সাভার মডেল থানাধীন বনগাঁও ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় স্কুলের টিফিনের সময় বিস্কুট কিনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। এ ঘটনায় শাহজাহান (৬০) নামে এক মুদি দোকানিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
গত বুধবার দুপুরে বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের মুদি দোকানে ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরসহ নির্যাতিত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শাহজাহান ঢাকা জেলার দোহার থানার সুতারপাড়া গ্রামের মৃত ইরফান আলীর ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সাভারের বনগ্রামে একটি মুদি দোকান ঘরে বসবাস করে আসছিল।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি বনগ্রাম এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বুধবার দুপুরে স্কুলের টিফিনের সময় সে বনগাঁওয়ের বনগ্রাম এলাকার একটি মুদি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এ সময় দোকানি শাহজাহান শিশুটিকে বিস্কুট দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টেনেহিঁচড়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে শাহজাহান তার মুখ চেপে ধরে এবং ধর্ষণ শেষে এই ঘটনা কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
পরে বিদ্যালয় ছুটির পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে তার চাচাকে বিস্তারিত জানালে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রাতেই উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত শাহজাহানকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধর্ষককে আটকের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামিকে হেফাজতে নিয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য ঢাকা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
