বগুড়া পুলিশ লাইন্সের বেতার শাখার একটি কক্ষ থেকে আরিফুল ইসলাম (৪০) নামের এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই, নিরস্ত্র) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ লাইন্সের ওয়ার্কশপ কক্ষ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত আরিফুল নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার পদ্মবিল ঘরিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। তিনি বগুড়া পুলিশ লাইন্সের বেতার শাখার ভবনের দ্বিতীয় তলায় অন্য সহকর্মীদের সঙ্গেই থাকতেন। পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতেও আরিফুলকে স্বাভাবিক ছিলেন।
প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে তিনি রাতে ঘুমাতেও যান। তবে শুক্রবার সকালে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ না পেয়ে সহকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তারা পুলিশ লাইন্সের বিভিন্ন জায়গায় আরিফুলকে খুঁজতে শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বেতার ভবনের পাশের একটি ওয়ার্কশপ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান সহকর্মীরা। অনেক ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে কক্ষের জানালা দিয়ে উঁকি দিলে সিলিং ফ্যানের সাথে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
খবর পাওয়ার পরপরই জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সহকারী পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কক্ষের দরজা খুলে ঝুলন্ত মরদেহটি নামানো হয় এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে। সহকারী পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান আরও যোগ করেন, মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো গোপন কারণ, মানসিক চাপ কিংবা কোনো ভিন্ন ঘটনা রয়েছে কি না, তা সব দিক বিবেচনায় রেখে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কোনো বিষয়কেই উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ লাইন্সের মতো সুরক্ষিত জায়গায় একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তার সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
