বাংলাদেশের চামড়া শিল্প দেশের অন্যতম পুরোনো রপ্তানিমুখী শিল্পখাত। বর্তমানে কাঁচা চামড়া, ফিনিশড লেদার, ফুটওয়্যার ও চামড়াজাত পণ্য মিলিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধীরে ধীরে বিস্তৃত হলেও সম্ভাবনার তুলনায় অর্জন এখনও সীমিত। আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব ও উচ্চমানের চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশ সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না। বিশেষ করে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা, কাঁচা চামড়ার সঠিক সংরক্ষণ সংকট, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত অসামঞ্জস্যতায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি শিল্পটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার প্রায় এক কোটি গবাদি পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে কার্যকর প্রস্তুতি নেয়া না হলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণে চামড়া শিল্প হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর খাতগুলোর একটি। কারণ দেশে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল সহজলভ্য, শ্রম ব্যয় তুলনামূলক কম এবং স্থানীয়ভাবে বড় শিল্পভিত্তি গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চামড়া শিল্পকে দেশের অন্যতম অগ্রাধিকার রপ্তানি খাত হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। তিনি বলেন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কাঁচামালের সহজলভ্যতা আমাদের বড় শক্তি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হলে পরিবেশগত মান, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ নিশ্চিত করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোরবানির সময় বিপুল পরিমাণ চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য মাঠপর্যায়ে লবণ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। চামড়া সংরক্ষণে অবহেলা হলে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং পুরো অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ মূলত তিনটি বড় কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। প্রথমত, সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীতে এখনও পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়নি। দ্বিতীয়ত, উচ্চমূল্যের ফিনিশড পণ্যের পরিবর্তে এখনও বড় অংশ কাঁচা বা স্বল্প প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। তৃতীয়ত, নীতিগত ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের (সিএসইআর) চেয়ারম্যান ও ল্যাবএইড হাসপাতাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম বলেন, বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ভ্যালু চেইনে অবস্থানগত দুর্বলতা। আমরা এখনও উচ্চমূল্যের ব্র্যান্ডেড পণ্য উৎপাদনে বেশ পিছিয়ে। অথচ বিশ্ববাজারে মূল মুনাফা আসে ব্র্যান্ডিং, ডিজাইন ও ফিনিশড পণ্য থেকে। তিনি বলেন, শিল্পটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতি, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা জরুরি। চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো প্রযুক্তি, পরিবেশ সনদ এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশকে একই পথে হাঁটতে হবে।
সাকিফ শামীম বলেন, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক বিদেশি ক্রেতা এখনও বাংলাদেশের ট্যানারি খাত নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগ প্রকাশ করে।
অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, চামড়া শিল্পকে শুধু কাঁচামালভিত্তিক শিল্প হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্প। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও মানসম্পন্ন ফিনিশড পণ্যের দিকে যেতে হবে। তিনি বলেন, কোরবানির সময় দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তৈরি হয়, কিন্তু সঠিক সংরক্ষণ না হওয়ায় বড় অংশের চামড়া মান হারায়। প্রতি বছর চামড়া সংরক্ষণে ঘাটতির কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসাভিত্তিক সংগ্রহকারীদের সমন্বিত প্রশিক্ষণ জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার কোরবানিতে প্রায় এক কোটি গবাদি পশু কোরবানি হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ চামড়া সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা গেলে কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজন সম্ভব। এজন্য ঈদের আগেই সারাদেশে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ, মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ এবং দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, চামড়া শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতকেই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে-সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীতে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা কার্যকর করা, আন্তর্জাতিক পরিবেশ সনদ অর্জন, প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, দক্ষ জনবল তৈরি, সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং চামড়াজাত পণ্যে রপ্তানি প্রণোদনা বাড়ানো। পাশাপাশি দেশীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলা ও নতুন বাজার অনুসন্ধানেও জোর দিতে হবে।
সাকিফ শামীম আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিহাসে এমন কিছু খাত রয়েছে, যেগুলোর সম্ভাবনা বহুবার আলোচিত হয়েছে, ছে, কিন্তু বাস্তব রূপান্তর কখনোই পুরোপুরি ঘটেনি। চামড়া ও ট্যানারি শিল্প সেই ধরনের একটি খাত- যেখানে সম্ভাবনা আছে, কাঁচামাল আছে, শ্রমশক্তি আছে, আন্তর্জাতিক বাজার আছে; কিন্তু এখনো অনুপস্থিত সমন্বিত রূপান্তর, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি জানান, এক সময় বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে তৈরি পোশাক খাতের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হতো। স্বাধীনতার পর থেকেই বিশেষ করে কোরবানির পশুর চামড়াকে কেন্দ্র করে দেশে একটি শক্তিশালী কাঁচামাল ভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠে। নব্বই দশক থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশের ট্যানারি শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে শুরু করে। ইউরোপ, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের ওয়েট ব্লু, ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদারের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একসময় দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ এই খাত থেকে আসতো। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। শুধু ট্যানারি নয়, জুতা, ব্যাগ, বেল্ট, ওয়ালেট, গ্লাভস ও অন্যান্য লেদার গুডস শিল্পেরও বিস্তার ঘটে।
তার মতে, ঢাকার হাজারীবাগ এক সময় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো- সম্ভাবনার সেই ধারাবাহিকতাকে আমরা ধরে রাখতে পারিনি। বিশ্ব যখন পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের দিকে এগিয়েছে, তখন বাংলাদেশের ট্যানারি শিল্প দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে। হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু স্থানান্তরের পরও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে কাঙিক্ষত অগ্রগতি হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও বড় ক্রেতাদের আস্থা পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পশুর চ পশুর চামডা উৎপাদিত হয়। তুলনামূলক ভাবে কম উৎপাদন ব্যয়, বড় শ্রমবাজার এবং ভৌগোলিক সুবিধার কারণে বাংলাদেশ সহজেই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী লেদার হাব হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু এজন্য আমাদের কাঁচা চামড়া বা স্বল্প মূল্যের ওয়েট বন্ধু রপ্তানির মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আমাদের লক্ষ্য হতে হবে উচ্চমূল্যের ফিনিশড লেদার ও ব্র্যান্ডেড লেদার গুডস রপ্তানি। বিশ্ববাজারে বর্তমানে একটি ব্র্যান্ডেড লেদার ব্যাগ, জুতা বা ফ্যাশন পণ্যের মূল্য কাঁচা চামড়ার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থনৈতিক শক্তি লুকিয়ে আছে ভ্যালু অ্যাডুশনে। বাংলাদেশ যদি পরিকল্পিতভাবে লেদার ভ্যালু চেইন ইকোনমি গড়ে তুলতে পারে, তাহলে আগামী এক দশকে এই খাত দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পে পরিণত হতে পারে। এই রূপান্তরের জন্য কয়েকটি কৌশলগত পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীকে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশসম্মত শিল্পাঞ্চলে রূপান্তর করতে হবে। সিইটিপি আধুনিকায়ন, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং গ্রিন সার্টিফিকেশন নিশ্চিত না করলে আন্তর্জাতিক বাজারে টেকসই অবস্থান তৈরি সম্ভব নয়।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ছাড়া এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নেই। অটোমেশন, ডিজিটাল প্রসেসিং, আধুনিক কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ফিনিশিং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিল্প মালিকদের জন্য সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। তৃতীয়ত, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এখনো আন্তর্জাতিক মানের লেদার ডিজাইন, ফ্যাশন ডেভেলপমেন্ট এবং ব্র্যান্ডিং বিশেষজ্ঞের ঘাটতি রয়েছে।
সাকিফ শামীমের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়, টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে একটি দক্ষ কর্মশক্তি তৈরি করতে হবে। চতুর্থত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের এই খাতের মূলধারায় যুক্ত করতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজার শুধু বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে থাকবে না; বরং ডিজাইননির্ভর ছোট ও মাঝারি ব্র্যান্ডও বড় ভূমিকা রাখবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য লেদার স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, চীনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার বিকল্প খুঁজছে অনেক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড। এই পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। আমরা যদি এখনই অবকাঠামো, পরিবেশমান, প্রযুক্তি এবং নীতি সংস্কারে জোর দিতে পারি, তাহলে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের ট্যানারি ও লেদার শিল্পে এক নতুন বিপ্লব সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশ এখন এলডিসি উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে। এই বাস্তবতায় শুধুমাত্র তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। আমাদের রপ্তানি বহুমুখীকরণ জরুরি। আর সেই বহুমুখীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তিগুলোর একটি হতে পারে ট্যানারি ও চামড়া শিল্প। কারণ এই শিল্প শুধু রপ্তানি আয়ের উৎস নয়; এটি কৃষি, পশুপালন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ফ্যাশন, উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম। সঠিক নীতি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে এই খাতকে রূপান্তর করা গেলে, বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন দিগন্ত সত্যিই উন্মোচিত হতে পারে।
