পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরতলির আনন্দপুরে দুটি গুদামে বিধ্বংসী আগুন লাগার পর ২৫ দিন পার হতে চললেও নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান যায়নি। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগেই ক্ষতিপূরণ এলো কেন, সে প্রশ্নও উঠেছে। আর সেই চেক হাতে নিয়ে পরিবারগুলির একটাই প্রশ্ন, মৃতদেহ তো দূরের কথা, দেহাংশ কবে হাতে পাবো? আর পারলৌকিক ক্রিয়াও কোনো পরিবার সারতে পারছেন না মৃত্যুর সঠিক খবর না পেয়ে।
আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের কাউকে এখনও শনাক্ত করা যায়নি। পরিবার পায়নি প্রিয়জনের দেহাংশটুকুও। ফলে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হল কেন, সে প্রশ্ন উঠেছে বারবার।
গত ২৫ জানুয়ারি রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদে পর পর দু’টি গুদামে আগুন লেগেছিল। ভেতরে আটকে পড়েছিল রাতের ডিউটিতে থাকা কর্মচারী এবং নিরাপত্তারক্ষীরা। তবে দুটি গুদামে কতজন ছিলেন তার কর্মচারি ও গুদামের কতৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও পুলিশ জানতে পারেনি। দমকলের দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ভস্মীভূত গুদাম থেকে একের পর এক দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু কারও পরিচয় তো দূরের কথা, কোন অঙ্গ উদ্ধার হচ্ছে, তা-ই বোঝা যায়নি। মোট ২৭টি নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে থানায়। বারুইপুর মহকুমা পুলিশ দেহাংশগুলি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। ২৭টি পরিবারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ডিএনএ নমুনা। কিন্তু মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করে বলা যায়নি।
পুলিশ এখনও আনন্দপুর থেকে উদ্ধারকৃত দেহাংশগুলির ডিএনএ রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। ফরেনসিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ সূত্রের দাবি, এই ধরনের ডিএনএ পরীক্ষায় অতিরিক্ত সময় লাগে। যেহেতু দেহাংশগুলির কোনটা কী তা বোঝা যাচ্ছে না, তাই ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া শনাক্তকরণের অন্য কোনও উপায় নেই।
আনন্দপুরের ঘটনায় মোট তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ভস্মীভূত গুদামের মালিক গঙ্গাধর ছাড়াও পুলিশ গ্রেফতার করেছিল ‘ওয়াও মোমো’র গুদামটির ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে। তিন জনই আপাতত জেলে।
