রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ সম্পন্ন করতে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হবে।’
গত মঙ্গলবার পল্লবীতে ওই শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আইনমন্ত্রী জানান, তদন্ত দ্রুত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, এটা কষ্টের কথা, খুবই কষ্টের কথা। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিচারের প্রক্রিয়াটাকে সামনের দিকে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব, আমরা সবকিছু করবো। আসাদুজ্জামান বলেন, আমি অফিসে এসেই প্রথম যে কাজটা করেছি, পুলিশ কমিশনারকে টেলিফোন করে বলেছি, এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন যতটা দ্রুত সম্ভব এক সপ্তাহের মধ্যে করার ব্যবস্থা করেন। উনি আমার সঙ্গে একমত হয়েছেন। একটু আগে আমার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিবের কথা হয়েছে। আমরা এটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
রামিসার বাবার জবাব, উনি যে হতাশা ব্যক্ত করেছেন সেটার একমাত্র উত্তর হবে- যদি আমরা এ বিচার প্রক্রিয়াটাকে প্রত্যাশিতভাবে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে পারি। সেটাই হবে আমাদের জবাব।
আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসার যে ঘটনাটি ঘটেছে, এটি আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, দুঃখজনক এবং এটি একটি ঘুণে ধরা সমাজের দৃষ্টান্ত। মাগুরার আছিয়াই হোক কিংবা ঢাকার রামিসাই হোকÑ সবকিছুই কিন্তু আমাদের মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের কঠোর মনোভাবের কথা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, এমন অপরাধ আমরা কোনোভাবেই আনচ্যালেঞ্জড হতে দেবো না। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য আমাদের যা কিছু করার প্রয়োজন, আমরা তার সবটুকু করবো।
দ্রুত বিচারের বিষয়ে নজির টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, এর আগে মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় আমরা রেকর্ড সাতদিনের মধ্যে চার্জশিট দিয়েছিলাম এবং মাত্র এক মাসের মধ্যে ট্রায়াল বা বিচারকাজ শেষ হয়েছিল। মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে বিচার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়া উচিত। আমি আশা করি, রামিসার ঘটনার বিচারও আমরা একইভাবে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে পারবো।
মামলাটির বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিচার কার্যকর করা সুপ্রিম কোর্টের এবং আদালতের এখতিয়ার, আমরা বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন এই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহযোগিতা ও যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হবে।
