পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। ফের সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিন সদস্যের সিট গঠন করতে হবে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে। আদালত জানিয়েছে, এখন থেকে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে চলবে তদন্ত। ঘটনার রাত থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত কী হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা।
আগামী ২৫শে জুন মামলার পরবর্তী শুনানি। ওইদিন তদন্ত রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দেবে সিবিআই। আদালতের নির্দেশ, তদন্তের জন্য মামলার প্রয়োজনীয় সবদিক খতিয়ে দেখতে পারবে সিবিআই। গত ২০২৪ সালের ৭ই অক্টোবর চার্জশিট দাখিলের পর থেকে পরবর্তী ১ বছর ৭ মাস কী তদন্ত করেছে সিবিআই, সে প্রশ্নও করে হাইকোর্ট। সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, আমরা ৭০-৮০ জন ব্যক্তির সাক্ষ্যগ্রহণ করেছি। তবে এই মামলায় সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমা আহুজার তদন্তে খুশি ছিলেন না নির্যাতিতার পরিবার। গত ২০২৪ সালের ৮ই আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক নাইট শিফট করতে যান। ওই রাতেই সেমিনার হলে তাকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নতুন করে আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি। শেষপর্যন্ত শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা-মা। তাদের দাবি, এই ঘটনায় আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে। যারা এখনো তদন্তের আড়ালে রয়ে গিয়েছে। সুবিচারের আশায় পানিহাটি থেকে বিজেপি’র হয়ে ভোটেও লড়েন নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ।
ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফের নতুন করে আরজি কর ফাইল খোলেন। ইতিমধ্যে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনো মন্ত্রী তাদের মেসেজে কিংবা ফোনে কোনো নির্দেশিকা জারি করেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। সেই মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে।
