সিলেট নগরে এবার কম পশুর হাট ইজারা দিলো সিলেট সিটি করপোরেশন। স্থায়ী হাট রয়েছে নগরের কাজির বাজার। সেই হাট এবার গেছে নতুন ব্যবস্থায়। ইজারাদার নগর বিএনপি নেতা মাহবুব কাদির শাহী। দীর্ঘদিন পর ব্যবসায়ী আফসর উদ্দিনের ইজারা থেকে এই হাট বের হয়েছে। অবশ্য শুরু থেকেই সতর্ক সিলেট সিটি করপোরেশন। বিতর্ক এড়াতে তারা নগরে ৫টি অস্থায়ী পশুর হাট দিয়েছে। এই হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরের দক্ষিণ অংশে দু’টি ও উত্তর অংশে তিনটি। দক্ষিণ অংশের দু’টির মধ্যে ট্রাক টার্মিনাল ও তেতলী হাট। উত্তরের হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে টুকেরবাজার তেমুখী, শাহপরান গেট ও মিরাপাড়া স্কুল মাঠ। যে ৫টি অস্থায়ী হাট সিটি করপোরেশন দিয়েছে সেগুলো হচ্ছে নগরের প্রায় সব প্রবেশমুখেই। ফলে প্রধান হাটে পশু আসা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ব্যাপারীরা জানায়, সিলেটে বেশির ভাগ পশু আসে উত্তরাঞ্চল থেকে। এসব পশু ট্রাকযোগে নিয়ে আসা হয়। এই অবস্থায় পথে পথে হাট থাকার কারণে পশুগুলো নির্বিঘ্নে হাটে আসতে পারে না। অনেক স্থানে জোরপূর্বক পশু নামিয়ে দেয়া হয়। এতে করে ব্যাপারীরা পড়েন নিরাপত্তাহীনতায়। কাজির বাজার পশুর হাটের ইজারাদার অংশীদার সাফেক মাহবুব মানবজমিনকে জানান, অবৈধ পশুর হাট বন্ধে আমরা পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত দিয়েছি। মুখেও বলেছি। পুলিশ কমিশনার বলেছেন ব্যবস্থা নিবেন। আমরা তার দেয়া বক্তব্যের প্রতিফলন দেখতে চাইবো। আর কাজির বাজারমুখী যেসব পশুবাহী গাড়ি আসবে সেগুলো যাতে পথে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য ব্যাপারীদের গাড়িতে পশুর হাটের ব্যানার লাগিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেন- সিটি করপোরেশন থেকে যে ৫টি পশুর হাট ইজারা দেয়া হয়েছে সেগুলোতে আমাদের আপত্তি নেই। এদিকে প্রতি বছর নগরের টিলাগড়, শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠ, লাক্কাতুড়া এলাকায় হাট ইজারা দেয়া হতো। এবার সেসব এলাকায় হাটের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। ফলে পশুর হাট কম হওয়ায় বেচাবিক্রি ভালো হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী মানবজমিনকে জানান, নগরের শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এবার কম হাট দেয়া হয়েছে। হাট কর্তৃপক্ষকে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা যেনো নিজেদের উদ্যোগেই হাট পরিষ্কার করে রাখেন। তিনি বলেন, এবার সিলেট সিটি করপোরেশন কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের মধ্যে হাটও থাকবে। ঈদের দিনেই সব এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।
এদিকে পশুর হাট নিয়ে এরই মধ্যে হাট কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বয় সভা করেছেন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। সভায় কোরবানির পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের জন্য আলোচনা করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার জানান, প্রত্যেকটি পশুর হাটে একটি করে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। যাতে যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা যায়। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি পশুর হাটগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি নগরে কোনো অবস্থাতেই ফুটপাথ বা সড়কের উপর পশুর হাট বসানো যাবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
