ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এতে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে টাইগাররা। সাদা পোশাকে জিম্বাবুয়ের পর পাকিস্তানকে টানা চার ম্যাচে হারানোর কীর্তি গড়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বাংলাদেশের জন্য এই কীর্তি যতটা গৌরবের ততটাই হতাশাজনক পাকিস্তানের জন্য। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। সাদা পোশাকে টাইগারদের এমন অভাবনীয় সাফল্য ও সাহসিকতার প্রশংসায় মেতেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা। রশিদ লতিফ, রমিজ রাজা, বাসিত আলীদের কন্ঠে এখন টাইগারদের জয়গান। তারা মনে করেন ঘরের মাঠে কেবল হোম কন্ডিশনে নয়, টাইগাররা বিদেশের মাটিতে গিয়েও বুঝিয়ে দেবে যে তারা অন্যতম সেরা দল।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১১ উইকেট নেন টাইগার পেসার নাহিদ রানা। উইকেটে গতির ঝড় তুলে সফরকারী ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রাখেন ডানাহতি এ বোলার। তার এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার বাসিত আলী। নাহিদের গতি ও আগ্রাসনকে পাকিস্তানের সাবেক গতিদানব শোয়েব আখতারের সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। বাসিত আলী বলেন, ‘নাহিদ রানা যেন শোয়েব আখতার বনে গেছে। সে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের মনে রীতিমতো ভয় ঢুকিয়েছে।
ব্যাটসম্যানদের মনোযোগ নষ্ট হয়েছে অন্য বোলারের সামনে, কিন্তু ভয়টা পাচ্ছিল মূলত নাহিদ রানাকে দেখেই- এটাই বাস্তব এবং এটাই সত্য।’ পেসের পাশাপাশি স্পিনার তাইজুল ইসলামের ফ্লাইট ও বৈচিত্র্যের প্রশংসা করেন বাসিত। তাইজুলকে তিনি পাকিস্তানের কিংবদন্তি স্পিনার ইকবাল কাসিমের সঙ্গে তুলনা করেন। সবুজ ঘাসের উইকেটে টাইগার পেসারদের ১৮ ও স্পিনারদের ২২ উইকেট নেয়াকে বড় অর্জন বলে আখ্যা দেন বাসিত। একই সঙ্গে লিটন কুমার দাসের ব্যাটিং ও মুমিনুল হকের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন তিনি। পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার রশিদ লতিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পাইপলাইন নিয়ে প্রশংসা করেন। তৃণমূল, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ‘এ’ দলের সঠিক পরিচর্যার সুফল পাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। কন্ডিশনের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ জিতেছেÑ এমন ধারণার বিরোধিতা করেছেন লতিফ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিকল্পনা করেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে। এটা আর সেই পুরোনো বাংলাদেশ নয়, যারা শুধু টার্নিং ট্র্যাক বানিয়ে জিততে চাইতো। এখন বাংলাদেশ ফাস্ট বোলিং ও স্পিনÑ দুই বিভাগেই ম্যাচ জেতার সামর্থ্য রাখে।’ সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক ও ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা বাংলাদেশের এই সাফল্যকে দেখছেন ভবিষ্যতের ‘বড় দল’ হয়ে ওঠার লক্ষণ হিসেবে।
প্রথম টেস্ট জেতার পর বাংলাদেশ দল রক্ষণাত্মক না হয়ে যে ধরনের চ্যালেঞ্জিং পিচ বেছে নিয়েছে, তা রমিজকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। রমিজ রাজা বলেন, ‘প্রথম টেস্ট জেতার পর তারা সহজেই একটি ব্যাটিং সহায়ক উইকেট বানাতে পারতো। কিন্তু বাংলাদেশের মানসিকতা বদলে গেছে। তারা এখন প্রথাগত স্পিন-বান্ধব পিচ বানিয়ে শুধু ঘরের মাঠে জেতার স্বপ্ন দেখে না; তারা আরো বড় স্বপ্ন দেখছে এবং বিদেশের মাটিতে গিয়েও বুঝিয়ে দেবে যে তারা অন্যতম সেরা দল।’
