বিদায়ের আগে জাতীয় দলকে যে পরামর্শ কোচ সালাউদ্দিনের

বিদায়ের আগে জাতীয় দলকে যে পরামর্শ কোচ সালাউদ্দিনের

ফন্ট সাইজ:

বিদায়বেলায় জাতীয় দল থেকে সুখস্মৃতি নিয়ে গেলেন কোচ সালাউদ্দিন। ডাগআউটে নিজের শেষ ম্যাচটায় জয়ের আনন্দে মাতেন। জাতীয় দলে কোচ সালাউদ্দিনের অধ্যায় শেষ হলেও নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের হেড কোচ হিসেবে সালাউদ্দিনকে নতুন দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিদায়বেলায় জাতীয় দল নিয়ে আক্ষেপও করেছেন কোচ সালাউদ্দিন, দিয়েছেন পরামর্শ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই যুগের বেশি সময় পার করে ফেলেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ এই সময়ে বড় কোনো ট্রফি জিততে পারেনি টাইগাররা। ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে তিনবার রানার্সআপ হয় টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর সদ্য বিদায়ী সহকারী কোচ সালাউদ্দিন খেলোয়ারদের আত্মতৃপ্তিতে না ভোগার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমি আশা করবো যে এরা আরো সামনের দিকে নিয়ে যাবে। এটাতে সেটিসফাই থাকারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমরা এখন পর্যন্ত মেজর কোনো টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতিনি। তারপরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের অবস্থানটা আরো উপরে নিতে পারিনি।’

আগের চেয়ে টাইগারদের বেশ উন্নতি হয়েছে বলে বিশ্বাস সালাউদ্দিনের। ধারাবাহিক জয়ের সংস্কৃতিও গড়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি। সালাউদ্দিন বলেন, ‘ছেলেরা এখন অনেক ম্যাচিউর। ভালো খেলছে এবং আমরা উইনিং কালচারের দিকে যাচ্ছি। যেটা আমাদের হয়তো আগে ছিল না। আমরা হয়তো একটা জিততাম তারপরে আবার দুই সিরিজ খবর নাই, তিন সিরিজ খবর নাই।’

২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান সালাউদ্দিন। প্রথমে শুধু সহকারী এরপর গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে ডেভিড হেম্পের বদলে ব্যাটিং কোচ করা হয় তাকে। বিসিবির সাথে তার বর্তমান চুক্তির কার্যকাল ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এইচপির প্রধান কোচের পদে যোগ দিলেও সালাউদ্দিনের চুক্তির মেয়াদ আপাতত ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্তই থাকবে। এইচপির আসন্ন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে কোচের দায়িত্ব বুঝে নেবেন সালাউদ্দিন। আগামী ১লা জুন শুরু হতে পারে আসন্ন এই সিরিজের ক্যাম্প। ৩রা জুন জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল এইচপি দলের সঙ্গে খেলতে ঢাকায় আসবে। এরপর ৮, ১০ এবং ১৩ই জুন ওয়ানডে সিরিজ মাঠে গড়াবে বগুড়া ও রাজশাহীতে। এরপর দু’টি চার দিনের ম্যাচ মাঠে গড়াবে সিলেটে।

এইচপি নিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবাল আমাকে দুটি অপশন দিয়ে একটি চয়েজ করতে বলেছিল। জাতীয় দলে সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করা অথবা দেশের ক্রিকেটের পাইপলাইনটাকে আরও শক্তিশালী করার কাজে যোগ দেয়া। আলোচনার পর আমি দ্বিতীয়টি বেছে নিয়েছি।’ নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘শুরুতে এইচপি নামে হয়তো কার্যক্রম শুরু হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটি পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট একাডেমিতে রূপান্তরিত হবে। ইনজুরিতে পড়লে আমাদের পেসারদের সুস্থ হতে অনেক সময় লাগছে। আমি বিশ্বমানের একটা রিহ্যাব সেন্টার তৈরি করতে চাই। যেটার বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।’ জাতীয় দলে না থাকলেও শিষ্যদের কাছেই থাকবেন সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি তো আর স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যাচ্ছি না। ওরা এখানে ক্রিকেট খেলবে, আমিও কাছাকাছিই থাকবো। তাই এত মিস করার কিছু নেই। হয়তো ড্রেসিংরুমের ভেতরের পরিবেশটা মিস করতে পারি, কারণ ওই সময়গুলো দারুণ ছিল।’

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন