দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃত চামড়া শিল্পে বিগত কয়েক বছর ধরে মারাত্মক ধস নেমেছে। এই ধারাবাহিক মন্দার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো। কোরবানির মৌসুমে সংগৃহীত চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক সংকটে ভুগছে। ফলে লাখ লাখ অসচ্ছল ও এতিম ছাত্রের ভরণপোষণ এবং দ্বীনি শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা কওমি মাদ্রাসা সংগঠন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চামড়া শিল্পের বর্তমান সংকট ও কওমি মাদ্রাসাগুলোর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবের চিত্র তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ। সংগঠনের সভাপতি আল্লামা নুরুল হকের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো কোরবানির ঈদে চামড়া সংগ্রহ করে আসছে। এই চামড়া বিক্রির পুরো টাকা ব্যয় হয় মাদ্রাসার অসহায়, দুস্থ ও অবহেলিত এতিম শিশুদের পেছনে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত সরকারের আমল থেকে শুরু হওয়া অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেটের কারণে চামড়ার বাজার আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
বর্তমান বাজারে চামড়ার দাম এতটাই কমে গেছে যে, তা সংগ্রহ ও পরিবহনের ন্যূনতম খরচও উঠছে না। মাঠপর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, লবণ দেয়া এবং আড়তে নেয়ার যাতায়াত খরচ চামড়ার বিক্রয়মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। ফলে লাভ হওয়া তো দূরের কথা, চামড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে মাদ্রাসাগুলো উল্টো বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে কওমি মাদ্রাসা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ চামড়া শিল্পকে সিন্ডিকেটমুক্ত করা, সরকারিভাবে ন্যায্য মূল্যে নিশ্চিত ও চামড়ার বিক্রয় বাজার উন্মুক্ত করা ও চামড়া শিল্পের এই ধস ঠেকাতে এবং কওমি মাদ্রাসাগুলোকে রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেনÑ সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা আব্দুর রাজ্জাক, কুমিল্লা মহানগর শাখার সেক্রেটারি মাওলানা শামসুল ইসলাম জিলানী। উপস্থিত ছিলেনÑ কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দের মধ্যে হাফেজ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, মাওলানা নিজাম উদ্দিন, মাওলানা আহমদ উল্লাহ, মাওলানা নজির আহমেদ, মাওলানা আবুল খায়ের, মাওলানা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা এয়াকুব আলী, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
