হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সরকারি বই পাচার মামলার আসামি ৭ শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। একসঙ্গে ৭ জন শিক্ষক পলাতক থাকায় চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমে। স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৮ই মে গভীর রাতে করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে সরকারি বই পাচার করার চেষ্টা চালায় একটি চক্র। তবে স্থানীয় জনতার তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এলাকাবাসী বিপুল পরিমাণ সরকারি বই বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় লাখাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ৭ জন নামীয় এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে লাখাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন, মুফতি রফিকুল ইসলাম (৫৭), নুরুল হক চৌধুরী (৫৮), মো. আব্বাছ উদ্দিন (৩৯), নজির আহমদ (৫২), আবু তালেব (৩৭), হাসানুল হক (৪২), মো. ইসমাইল হোসেন (৪০)।
এদিকে, মামলা দায়েরের পর থেকেই এই ৭ শিক্ষক মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় এসে ক্লাস না করেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক পড়াশোনা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, যার প্রভাব পড়তে পারে তাদের আগামী পরীক্ষায়। লাখাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একসঙ্গে এতজন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। শিক্ষা অফিসার আরও জানান, সরকারি বই আত্মসাৎ ও পাচারের এই স্পর্শকাতর মামলাটি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এখতিয়ারে রয়েছে। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ঘেরাটোপ আরও শক্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, পবিত্র আমানত রাষ্ট্রীয় বই চুরির মতো জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থায় মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
