মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এক অহেতুক সেতু নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ সেতু নির্মাণ নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নদী নেই খাল নেই, ডোবা বা পুকুরও নেই; অথচ ২৯ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এতে ব্যয় হচ্ছে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা। যা সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।
স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে নয়াডিঙ্গি নামক স্থানে গড়ে উঠেছে একটি পোশাক কারখানা। সেতুর উত্তর পাশে আধাপাকা ঘর ও বহুতল ভবন, দক্ষিণ পাশে দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে চলছে সেতুর দুইপাশের নির্মাণকাজ। এখানে কোনো খাল বা নদী নেই। অপরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণ করা হলে বা জনসাধারণের উপকারে না আসলেও সরকারের গচ্চা যাবে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা।
সেতুর দুই পাশের বাসিন্দারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে যেখানে পানিপ্রবাহ থাকে না। সেখানে কেন এতো ব্যয়বহুল সেতু? প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাস্তবতা যাচাই-বাছাই না করে অপ্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ জনস্বার্থে নয় বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
সরজমিন দেখা যায়, সেতুর পাইলিংয়ের কাজ চলছে। সেতু নির্মাণের সময় প্রকল্পের তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড বা প্রকল্প ফলক লাগানোর নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। তবে সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. ফজলুর রহমানের ভাষ্যমতে, সেতু নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এ জায়গায় সেতু নির্মাণের প্রয়োজন আছে কি না জানতে চাইলে প্রজেক্ট ম্যানেজার বলেন, সেতুর নিচ দিয়ে আন্ডারপাস হবে। মহাসড়কের ওপর দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হবে না। সেতুটি নির্মাণ হলে কমে আসবে সড়ক দুর্ঘটনা।
এ বিষয়ে ধানকোড়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সরকারি নথিপত্রে ওখানে কোনো নদী খাল ও জলাশয় নেই। তাহলে কোন বাস্তবতায় সেখানে এতো টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয় বলে তিনি মনে করেন।
ধানকোড়ার বাসিন্দা রেজা জামান জিপু বলেন, এখানে অহেতুক সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো পানিপ্রবাহের চিহ্ন নেই। যা জনগণের কোনো কাজে আসবে না। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের উল্টো প্রশ্ন করেন এখানে নদীনালা বা খালবিল কিছুই নেই। চারিদিকে ঘরবাড়ি হয়েছে। সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এখনো সেতুর অভাবে মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে, সেখানে সেতু না করে এখানে সেতু করায় সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, কোনো সময় ঢাকা-আরিচা সড়কটি চারলেনে উন্নীত হবে। একটি পুরনো সেতু রয়েছে। সেই পুরনো সেতুর সঙ্গে সংযোগ করে এ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে এখন কাজে না আসলেও ভবিষ্যতে কাজে আসবে। সেই পরিকল্পনা করেই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো জায়গায় সেতু বা কালভার্ট থাকলে ইচ্ছা করলেই সেটি ভাঙা যায় না। নদী বা খাল থাকলে ভরাট করা যায় না। যেখানে সেতুটি হচ্ছে সেখানে হয়তো পানিপ্রবাহ নেই কিন্তু কোনো সময় ভারী বন্যা হলে এ সেতু কাজে লাগবে।
