শক্ত অবস্থানে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থী, লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

গা ই বা ন্ধা -৩

শক্ত অবস্থানে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থী, লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

ফন্ট সাইজ:

গাইবান্ধা-৩ আসনে নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বি¦তা করলেও ভোটারদের ধারণা, মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। স্থানীয় ভোটাররা জানান, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ওরফে লেবু মাওলানার পক্ষে ভোটের মাঠে গণজোয়ার দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। এ ছাড়া, গাইবান্ধা-৩ আসনে আরও আটজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে মইনুর রাব্বী চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে সুরুজ মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে এটিএম আওলাদ হোসাইন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকে আব্দুল্লাহ আদিল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকে মোছাদ্দিকুল ইসলাম, জনতার দলের কলম প্রতীকে মনজুরুল হক, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকে এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি এবং ঢেঁকি প্রতীকে আজিজার রহমান। এদের মধ্যে ট্রাক ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীরাও সক্রিয়ভাবে প্রচার চালান। স্থানীয় সূত্র জানায়, একসময় এ ৩ আসন জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি ছিল। পরে তা আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা দখলে নেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাঠে সরব বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক এবং পলাশবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পৃথক দু’টি উপজেলা থেকে প্রার্থী হওয়ায় তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচন মূলত বিএনপি’র প্রার্থী ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং পলাশবাড়ী উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৩ সংসদীয় আসন। সাদুল্লাপুর উপজেলায় রয়েছে ৭৫টি এবং পলাশবাড়ী উপজেলায় ৭১টি ভোটকেন্দ্র। এর মধ্যে ৫৬টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে সাদুল্লাপুর উপজেলায় পৌরসভা গঠনসহ দুই উপজেলায় সমানভাবে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বলেন-নির্বাচিত হলে এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, গাইবান্ধা-৩ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১ হাজার ৯৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৬ জন, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের ৯৫৮টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন