ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় রোকন উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকছেদ আলী চার লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে চাকরি দিতে না পেরে এক লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। বিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ৫ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া দিনের পর দিন কোনো ছুটি না নিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন তিনি। ২০০২ সালে মোকছেদ আলী ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন।
মঙ্গলবার সরজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মোকছেদ আলীকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক আগামী এক মাসের মধ্যে অবসরে যাবেন। তাই গত দুই-তিন মাস ধরে অসুস্থতার কথা বলে প্রতি সপ্তাহে দুই-তিনদিন ছুটি কাটান। শিক্ষকদের হাজিরা খাতা ঘেঁটে এসব কথার সত্যতাও মিলেছে।
সূত্র জানায়, হুমায়ুন নামে একজনকে বিদ্যালয়ের ল্যাব সহকারী পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে আট লাখ টাকা চুক্তি করেন প্রধান শিক্ষক। চার লাখ টাকা প্রধান শিক্ষককে দেন হুমায়ুন ও তার বড় ভাই কালিমুল্লাহ। পরে চাকরি দিতে না পেরে চার লাখের মধ্যে এক লাখ টাকা ফেরত দেন। বাকি তিন লাখ দেই-দিচ্ছি বলে টালবাহানা করছেন। হুমায়ুনের বড় ভাই কালিমুল্লাহ এ অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়ম ও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকছেদ আলী বিদ্যালয় পরিচালনায় দায়িত্বহীনতা, উদাসীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বিদ্যালয়টি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে গেছে। যে কারণে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান একেবারে খারাপ হয়ে গেছে। তাই, স্থানীয়রা বাচ্চাদের এখানে ভর্তি না করে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করছেন। এ বিষয়ে শাহ মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এডহক কমিটির সভাপতির নাম ঘোষণা না করার জন্য আবেদন করেছি। কারণ গত ২৪ বছরের দুর্নীতি ঢাকতে ইচ্ছামতো নিজের পছন্দের নাম দিয়েছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রতিটি কর্মচারী নিয়োগে জনপ্রতি চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা দুর্নীতি করেছেন। তবে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকছেদ আলী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাকরির শেষ মুহূর্তে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞার নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি লাইন কেটে দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অভিযোগের বিষয়ে এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তবে অভিযোগটি খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
