২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধরনের অচলাবস্থা থেকে রক্ষা পেলো নিউইয়র্কের পর্যটন খাত। উগ্র মজুরি বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও কর্মী সংকটের প্রতিবাদে যে ‘মহা-ধর্মঘটের’ হুমকি আসছিলো, তা অবশেষে ভেস্তে গেছে। প্রায় ২৫,০০০ হোটেল শ্রমিকের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে আট বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন নিউইয়র্কের হোটেল মালিকরা।
আগামী ১১ই জুন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে যৌথভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ আটটি ম্যাচ। এই মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ ফুটবলপ্রেমীর আগমন ঘটবে বিগ অ্যাপলে। এমন সময়ে শ্রমিক ধর্মঘট হলে সেটি হতো শহরের জন্য এক বিরাট বিপর্যয়। মঙ্গলবার হোটেল অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক সিটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী বিজয় দন্দপানি জানান, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা দর কষাকষির পর হোটেল মালিকদের মানসিকতা এখন ইতিবাচক। যদিও শ্রমিকদের দাবি মানতে গিয়ে মালিকপক্ষকে বেশ বড় ছাড় দিতে হয়েছে।
দন্দপানি বলেন, ‘শুরুতে পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছিলো, সে তুলনায় আমরা আজ অনেক দূর এগিয়ে এসেছি এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছি। লস অ্যাঞ্জেলেস বা বোস্টনের মতো শহরগুলোতে সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলন দেখিয়েছে যে, এই ধর্মঘটের হুমকি কতটা বাস্তব ছিলো।’
তিনি আরও জানান, করোনা মহামারীর ধাক্কা নিউইয়র্কের হোটেল ব্যবসা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর ওপর মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ, উচ্চ শুল্ক এবং ভিসা জটিলতার মতো বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
এর আগে একটি প্রস্তাবিত নগর আইনের কারণে শ্রমিকদের মজুরি খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়। তবে নতুন এই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির ফলেও মালিকদের ব্যয় বাড়বে। তবে মালিকদের আশা, বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্ট এবং পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় সেই বাড়তি খরচ পুষিয়ে দেবে।
