কথিত অভিবাসীদের বিএসএফ’র হাতে তুলে দেয়ার নীতি কার্যকর করলো শুভেন্দুর সরকার

ফন্ট সাইজ:

কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়নের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। পশ্চিমবঙ্গে নতুন আইন কার্যকর করা হলো। উত্তরবঙ্গ সফর থেকে ফিরে এসে বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি জানিয়েছেন, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের গ্রেপ্তার করে সরাসরি তুলে দেয়া হবে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৪ই মে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। আমাদের আগের সরকার একদিকে শরণার্থীদের সিএএ (সুরক্ষা) দেওয়ার বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ আইনকে কাজে লাগায়নি। রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার ওই আইন কার্যকর করলো।

শুভেন্দু ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তাদের পুলিশ কোনো হেনস্তা করতে পারবে না বা আটক করতে পারবে না। কিন্তু যারা সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত নন, তারা সম্পূর্ণ অবৈধ অভিবাসী। তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করবে এবং বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র সঙ্গে কথা বলে তাদের দেশ থেকে বিতাড়নের ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ, ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট। সীমান্ত সংলগ্ন সমস্ত থানায় দেশের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে এই আইন কার্যকর করা হলো। রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্যসচিবকে এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফ’র সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিনই বিএসএফ’র হাতে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার জমি তুলে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেছেন, বিএসএফ’র সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে আমরা রাজ্য এবং দেশকে সুরক্ষিত করবো। রাজ্যে বিজেপি’র সরকার গঠিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে বিএসএফ’র হাতে জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। সীমান্তের অরক্ষিত অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার জন্য এই জমি হস্তান্তর এতদিন আটকে রেখেছিল পূর্বতন সরকার।

এদিকে রাজ্য জুড়ে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। অনেক জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অভিবাসীদের। অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে বাড়ির মালিকদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বাড়ি ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন