অপরাধী যেই হোক রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না: ডিএমপি কমিশনার

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধী যেই হোক, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। মোসলেহ্ উদ্দিন বলেন, ‘একটি নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও শান্তিময় রাজধানী গড়ে তুলতে ডিএমপি কাজ করছে।

এই যাত্রায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ভূমিকা পালন করছে।’ ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রায় তিন কোটি মানুষের এই নগরীতে ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে গত ১লা মে থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে ডিএমপি’র সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। ডিবি কার্যালয়ে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআইভিত্তিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ই-প্রসিকিউশনও চালু করা হয়েছে। কমিশনার বলেন, নাগরিকদের অনলাইন জিডি করার সুবিধাসহ সকল ধরনের অপরাধের তথ্য শেয়ার করার জন্য ‘হ্যালো ডিএমপি’ এবং হোটেলে অস্থানকারী সন্ধিগ্ধ ব্যক্তি ও অপরাধী শনাক্তকরণের নিমিত্তে ‘হোটেল বোর্ডার সিস্টেম’সহ বেশ কিছু প্রযুক্তি কিছু নির্ভর অ্যাপস চালু করা হয়েছে। ডিএমপিকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিংমল ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঈদের ছুটিতে নগরীর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নগদ টাকার লেনদেন কমিয়ে ব্যাংকে লেনদেন করার জন্য এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করলে পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদকে ঘিরে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জাল নোট প্রতিরোধে ডিবি ও থানা পুলিশকে সক্রিয় করা হয়েছে। ডিএমপি’র প্রতিটি থানায় মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। আমরা ঢাকার নাগরিকদের মতামত নিয়ে সর্বোত্তম পুলিশি সেবা দিতে চাই। অনেক ক্ষেত্রে জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের কাজ করা দুরূহ। চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সমাজের সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

মিট দ্য প্রেসে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন