গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা কার্যালয়ের অফিস কক্ষে দৈনিক মানবজমিনের শ্রীপুর উপজেলা প্রতিনিধি ও এটিএন নিউজ (ডিজিটাল) গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক এনামুল হক আকন্দকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার সার্ভেয়ার কাজী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে শ্রীপুর পৌরসভা কার্যালয়-এর তৃতীয়তলায় কম্পিউটার অপারেটর নাঈমের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এনামুল অভিযোগ করে জানান, সংবাদ সংক্রান্ত কাজে তিনি পৌরসভা কার্যালয়ে যান। পরে তৃতীয়তলায় যাওয়ার সময় সার্ভেয়ার কাজী মিজানুর রহমান তাকে ডেকে একটি কক্ষে বসান।
সেখানে পূর্বের একটি ভিডিও নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং পরে শারীরিকভাবে মারধর করেন। এ সময় সাংবাদিকের চিৎকার শুনে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সহকর্মী সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন বলেন, হামলাকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
শ্রীপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর অফিস চলাকালীন সময়ে হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা। অভিযুক্ত কাজী মিজানুর রহমান সাংবাদিককে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি ফোনে কিছু বলতে পারবো না। শ্রীপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারুন-অর রশীদ বলেন, তৃতীয়তলায় মারধরের ঘটনা সত্য। আমি গিয়ে দু’জনকে আলাদা করেছি। শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে গাজীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, পৌরসভা কার্যালয়ে একজন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।
