সিলেটে তাইজুল ম্যাজিক

সিলেটে তাইজুল ম্যাজিক

ফন্ট সাইজ:

অসম্ভবকে প্রায় সম্ভব করে ফেলেছিল পাকিস্তান। বিশাল রান তাড়া করে এক রেকর্ড জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল শান মাসুদের দল। কিন্তু চতুর্থ দিনের শেষ বিকালে পর পর দুই উইকেট তুলে নিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরান তাইজুল ইসলাম। সেই সঙ্গে তার স্পিন ম্যাজিকে জয়ের যে স্বপ্ন বুনেছিলো বাংলাদেশ তা পঞ্চম দিন বাস্তবে রূপ দিলেন তিনি নিজেই। তার বোলিংয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল দারুণ এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। সফরকারী পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা। ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় ৩৫৮ রানে।

এই জয়ে বল হাতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তিনি একাই শিকার করেছেন ৬ উইকেট, খরচ করেছেন ১২০ রান। প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করা বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে তোলে ৩৯০ রান। জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৩২ রান করা পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি। সিরিজের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহীম। তিনি সিরিজে ২৫৩ রান করেছেন। অন্যদিকে দলকে বিপদমুক্ত করা লিটন কুমার দাস হয়েছেন ম্যাচসেরা।

তিনি ম্যাচে ১২৬ ও ৬৯ রানের দুটি ইনিংস খেলেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর এটি বাংলাদেশের টানা চতুর্থ টেস্ট জয়। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন সাফল্য প্রথম। শেষ দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২১ রান, হাতে ছিল ৩ উইকেট। কিন্তু তাইজুল জাদুতে সেই বাধা অনায়াসেই পার করে টাইগাররা। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা দারুণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে জয় নিশ্চিত করেন।
পাকিস্তানের হয়ে একাই লড়াই করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তিনি ৯৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। সকালে সাজিদ খানকে ২৮ রানে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন তাইজুল।

ঠিক পরের ওভারেই শরিফুল ইসলামের বলে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন রিজওয়ান। এরপর খুররম শাহজাদকে ফিরিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তাইজুল। প্রথম সেশনে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই ৩ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল সফরকারীদের। কিন্তু স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তাদের সব আশা ভেঙে যায়। আগের দিন চমৎকার একটি ক্যাচ নিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। সেই ক্যাচটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

এর আগে ৩১৬ রানে ৭ উইকেট নিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করেছিল পাকিস্তান। শান মাসুদ ৭১ ও বাবর আজম ৪৭ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তারা তৃতীয় উইকেটে ৯২ রান যোগ করেন। এরপর সালমান আলী আগা ৭১ রান করে রিজওয়ানের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৪ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু তাইজুল দুর্দান্ত আর্ম ডেলিভারিতে সালমানকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন। মাসুদকেও শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের দারুণ এক ক্যাচে পরিণত করেন এই স্পিনার। পেসার নাহিদ রানাও বল হাতে দলের জয়ে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। রান তাড়ায় আব্দুল্লাহ ফাজাল ও আজান আওয়াইজকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন বোলাররা। পরে সাউদ শাকিলকেও বোকা বানান রানা। নতুন বল নেয়ার পর দ্রুতই সাফল্য পায় স্বাগতিক দলের বোলাররা।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলারদের পাশাপাশি ফিল্ডারদের অসাধারণ ক্ষিপ্রতা জয়ের পথ সহজ করেছে। প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় টেস্টেও দলগত পারফরম্যান্সের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো টাইগাররা। পুরো সিরিজে দুর্দান্ত ক্রিকেট উপহার দিয়েছে তারা। পেসারদের আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং স্পিনারদের নিখুঁত লাইন লেংথ প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগই দেয়নি। দীর্ঘ দশ দিনের কঠিন লড়াইয়ে শারীরিক ও মানসিক উভয় ক্ষেত্রেই নিজেদের প্রমাণ করেছেন ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে চাপের মুখে ধীরস্থির থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ছিল প্রশংসনীয়। এই ঐতিহাসিক জয় প্রমাণ করে যে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম অবশেষে দারুণ ফল দিতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই সিরিজটি একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন