সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে মুশফিকুর রহীমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান করে বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল পুরো দিন ব্যাট করা। শেষ সেশনে দ্রুত উইকেট পড়ায় ১৩৭ রানে আউট হন মুশফিক। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে হেলমেটে লাথি মারেন তিনি। এই ঘটনা নিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘এতটুকু বলতে পারি- এটা অন্যভাবে ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। সেখানে নেতিবাচক কিছুই ছিল না, একদমই না।
আমি না বললেও বলতে পারি, বিষয়টি মোটেও সিরিয়াস কিছু ছিল না। এটা খুবই মজার একটি ঘটনা ছিল। এতটুকুই বলতে পারি, এখানে সিরিয়াস কোনো বিষয় ছিল না।’ শান্তর মতে, ড্রেসিংরুমে কোনো নেতিবাচক পরিবেশ নেই। মুশফিকের লাথি মারা কেবলই মজার ছলে করা। মাঠে পাঠানো বার্তা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘লিটনও মাঠ থেকে মেসেজ পাঠিয়েছিল একবার আমার কাছে আসলে কোন এপ্রোচে খেলবে। খুব ভালো একটা কমিউনিকেশন হচ্ছিল।’
অন্যদিকে লিটন দাসের পারফরম্যান্স নিয়ে শান্ত উচ্ছ্বসিত। প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের মধ্যে লিটনের ১২৬ রান ছিল অসাধারণ। দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি করেন ৬৯ রান। উইকেটরক্ষক হিসেবেও ছিলেন দুর্দান্ত। শান্ত বলেন, ‘লিটন আউটস্ট্যান্ডিং ইনিংস খেলেছে, যাকে আমি বলবো ওয়ান অফ হিজ বেস্ট ইনিংস। ক্রেডিট তাইজুল ভাই, তাসকিন, শরিফুল, রানা তাদেরকে অবশ্যই দিতে হবে সাপোর্ট দেয়ার জন্য।’
লিটনের পারফরম্যান্স দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘ওই জায়গায় লিটন ভাই যেভাবে দায়িত্ব নিয়েছে, এটাই আসলে একটা বড় দল হওয়ার লক্ষ্যে যে বাংলাদেশ এগুচ্ছে তার প্রমাণ। ড্রেসিং রুমে বিশ্বাসটা সবার ছিল যে এখান থেকে তাইজুল ভাই একটা সাপোর্ট দিবে এবং লিটন রান করতে থাকবে।’ এছাড়াও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের বিষয়ে শান্ত বলেন, ‘আমি বলবো যে সব থেকে বড় কৃতিত্ব লিটনের। অন্যথায় আমরা ওই প্রথম ইনিংসে অনেক পেছনে পড়ে যেতাম।’ শান্ত মনে করেন, এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য একটি বড় অর্জন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত অবশ্যই। তবে আমি মনে করি সামনে বাংলাদেশ আরও অনেক টেস্ট ম্যাচ খেলবে, সেখানে আরও ভালো ভালো অর্জন আসবে এটাই প্রত্যাশা। সব মিলিয়ে আমি বলবো, এই চারটি ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক স্পেশাল। আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি।’
দারুণ এই জয়ের পর দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শান্ত ভীষণ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘তবে আমি সবসময় যেটা বলি, আমাদের টেস্ট দলটাকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে হবে। এখনও অনেক জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে। সেসব জায়গা ঠিক করতে হবে। যখন আমরা দেশে এবং দেশের বাইরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারব, তখনই আমি বলবো যে আমাদের দল আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে যাচ্ছে।’
