সিলেট টেস্টে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের স্পিন ও পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান দল। ৩৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। পাকিস্তানের এমন অসহায় আত্মসমর্পণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটির কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। তবে বিজয়ী বাংলাদেশকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি। ওয়াসিম লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের কাছে টানা দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানকে পরাজিত হতে দেখে সত্যিই হতাশ। তবে বিজয়ীদের পূর্ণ প্রশংসা ও কৃতিত্ব প্রাপ্য, কারণ তারা এই সিরিজে পরিপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনটি ওয়াসিম আকরামের নজর কেড়েছে, তা হলো কন্ডিশন ও উইকেট। অতীতে মিরপুর মানেই ছিল মন্থর আর অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট। কিন্তু সেই ধারা ভেঙে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক মানের উইকেট বানাচ্ছে, যা পেসারদের দারুণ সাহায্য করছে। বাংলাদেশের এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করে পাকিস্তানি কিংবদন্তি বলেন, ‘বাংলাদেশের পিচগুলো আগে নিচু, ধীরগতির এবং অতিরিক্ত টার্নিং ছিল; কিন্তু এখন তারা দুর্দান্ত টেস্ট পিচ তৈরি করছে। যা তাদের দ্রুত উন্নতি করতে থাকা পেস বোলারদের সাহায্য করছে। আর এই পেস আক্রমণেই এবার পাকিস্তানকে পুরোপুরি ছাপিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ এখন এই ফরম্যাটে বিশ্বের যেকোনো সেরাদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’ এই সিরিজে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের আশেপাশে নিয়মিত বল করা এই তরুণ বোলারকে নিয়ে আলাদাভাবে মেতেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই বাঁহাতি পেসার। আকরাম লিখেন, ‘আর কী অসাধারণ এক প্রতিভা নাহিদ রানা! ওর বোলিং দেখাটা সত্যিই এক দারুণ এবং চোখ জুড়ানো অভিজ্ঞতা। অভিনন্দন বাংলাদেশ।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয়ে একঝাঁক নতুন রেকর্ড নিজেদের করে নিলো বাংলাদেশ। এই প্রথম নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে টানা ৪টি টেস্ট ম্যাচ জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়লো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা (পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাক-টু-ব্যাক দুই সিরিজে টানা ৪ জয়)। একই সাথে অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকুর রহীমকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
