ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকতে মঙ্গলবার রাতে বোর্নমাউথকে তাদের মাঠে হারাতে হতো ম্যাচচেস্টার সিটির। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র করে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। আর এতে সিটিজেনদের শিরোপার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ২২ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা জিতে নেয় আর্সেনাল। বোর্নমাউথকে হারাতে পারলে লীগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে ম্যান সিটির পয়েন্ট ব্যবধান ২-এ নেমে যেতো। তাতে প্রিমিয়ার লীগের শিরোপর ভাগ্য নির্ধারিত হতো শেষ রাউন্ডে। তবে বোর্নমাউথের সঙ্গে ড্র করায় ৩৭ ম্যাচ শেষে ম্যান সিটির পয়েন্ট ৭৮ এ গিয়ে দাঁড়ায়। সমান ম্যাচে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। এতে এক ম্যাচ হাতে রেখে চ্যাম্পিয়ন হয় উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। ফলে আগামী রোববার ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ম্যাচটি মিকেল আর্তেতার দলের জন্য শুধু উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে ২০০৩-০৪ মৌসুমে থিয়েরি অঁরি, প্যাট্রিক ভিয়েরারা আর্সেনালকে লীগ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন। প্রিমিয়ার লীগ ইতিহাসে এটি আর্সেনালের ১৪তম লীগ শিরোপা। তাদের চেয়ে এ শিরোপা বেশি জিতেছে শুধু লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (২০ বার)।
ভাইটাইলিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে জুনিয়র ক্রুপির গোলে এগিয়ে গিয়েছিল বোর্নমাউথ। ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিল সিটি। একসময় তো মনে হয়েছিল, গার্দিওলার দল ম্যাচটা হেরে যাবে। তবে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে আর্লিং হালান্দের গোলে হার এড়ায় সিটি। কিন্তু হার এড়ালেও শিরোপার আশা শেষ হয়ে যায় গার্দিওলার শিষ্যদের। আর রেকর্ডে নাম তুলেন মিকেল আর্তেতা। সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে তিনিই প্রথম ফুটবলার যিনি প্রিমিয়ার লীগ জয়ের কীর্তি গড়লেন। সর্বশেষ তিন মৌসুমেও লিগ শিরোপার খুব কাছে গিয়েছিল আর্তেতার দল। কিন্তু ওই তিনবারই রানার্সআপ হয়েই মৌসুম শেষ করতে হয়েছে আর্সেনালকে। তবে এবার আর সেটার পুনরাবৃত্তি হতে দেননি আর্তেতা।
এবার আর্সেনালের সাফল্যের পিছনে দলটির জমাট রক্ষণের যেমন ভূমিকা ছিল, তেমনি বড় অবদান ছিল সেট পিসে অসাধারণ দক্ষতা। গ্রীষ্মে দলে আসা ভিক্টর ডিয়োকেরেস দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও বুকায়ো সাকা, এবারেশি এজে, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড, মার্টিন জুবিমেন্ডি, ডেক্লান রাইস এবং মিকেল মেরিনোরা নিয়মিত গোল করে অবদান রেখেছেন। গোল করানোর ক্ষেত্রেও আর্সেনালের ছিল দারুণ বোঝাপড়া। ট্রোসার্ড, ওডেগার্ড, রাইস, সাকা ও জুরিয়েন টিম্বাররা প্রত্যেকেই চারটির বেশি অ্যাসিস্ট করেছেন। আর পোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। রক্ষণে গ্যাব্রিয়েল মাগালেস ও উইলিয়াম সালিবা জুটি পুরো মৌসুমজুড়ে প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডদের বোতলবন্দী করে রাখেন। এখন পর্যন্ত লীগ খেলা ৩৭ ম্যাচের মোটে ২৬টি গোল হজম করেছে আর্তেতার দল, এর মধ্যে ক্লিনশিট রেখেছে ১৯ ম্যাচে! অন্যদিকে সেট পিস থেকে এবার সর্বোচ্চ ২৪টি গোল করেছে আর্সেনাল। শুধু কর্নার থেকেই প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৮টি গোল করেছে আর্তেতার শিষ্যরা। দলীয় সাফল্যের মাঝে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন আর্সেনালের তরুণ তুর্কী ম্যাক্স ডাউম্যান। প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়লেন এই কিশোর। মাত্র ১৬ বছর ১৪৪ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ে তিনি ভেঙেছেন ম্যানচেস্টার সিটির ফিল ফোডেনের রেকর্ড (১৭ বছর ৩৫০ দিন)।
বোর্নমাউথের বিপক্সে ড্রয়ে সিটির সমর্থকদের হৃদয় তো ভেঙেছেই, সাথে কোচ পেপ গার্দিওলার বিদায়ের ঘণ্টাও বেজে উঠেছে। ম্যাচ চলাকালীন সিটির গ্যালারি থেকে গান ভেসে আসে, ‘আর একটা বছর, আর একটা মাত্র বছর!’ সিটির সমর্থকেরা হয়তো তাদের প্রিয় গুরুকে আরো কিছুদিন রেখে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সিটির ডাগআউটে স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ডের অধ্যায় আর মাত্র এক ম্যাচের। বিদায়লগ্নে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে বাহবা দিতে ভুলেননি পেপ। ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘খুব কঠিন একটা ম্যাচ ছিল।
আমাদের কিছুটা শক্তির অভাব ছিল,
কারণ প্রতি তিন দিনে আমাদের একটা করে ম্যাচ খেলতে হয়েছে। তারপরও ছেলেরা লড়াই করেছে। শেষ মুহূর্তে গোল পেলেও বড্ড দেরি হয়ে গেছে।’ সাবেক সহকারী আতের্তাকে অভিনন্দন জানিয়ে গার্দিওলা বলেন, ‘আর্সেনাল, মিকেল আতের্তা এবং ওদের খেলোয়াড়দের অনেক অভিনন্দন। ওরা সত্যিই এই শিরোপার যোগ্য। এই মুহূর্তটি ওদের জন্য ভীষণ স্পেশাল।’ আর্সেনাল মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস ইনস্টাগ্রামে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম... কাজ শেষ।’
