ফেনীতে কোরবানির পশুরহাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছাগলনাইয়ার উপজেলার বিশাল আকৃতির গরু ‘মকা’। প্রায় ৩০ মণ ওজনের এই ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। গরুটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। ছাগলনাইয়ার বাবুল চৌধুরীর জাহান এগ্রো ফার্মের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন এই গরুটি।
খামার সূত্র জানায়, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার দিয়েই গরুটি বড় করা হয়েছে। ‘মকা’ প্রতিদিন দুই বেলা প্রায় ১২ থেকে ১৮ কেজি ভুসি খায়। সঙ্গে থাকে খামারির নিজের জমির নেপিয়ার ঘাস, চাল, ছোলা আর খৈল। খামারের মালিক বাবুল বলেন, গরুটিকে চার বছর ধরে এই খামারেই লালন-পালন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে শখ করে ‘মকা’ গরুটি বড় করেছে। আমাদের বেশি লাভের দরকার নেই, শুধু একটা ভালো দাম পেলেই খুশি। এদিকে গরুটির আশ্চর্যজনক নাম শুনেই দেখতে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। খামারির শখের এই গরুটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
প্রতিদিন মানুষ ভিড় করছেন মকাকে এক নজর দেখতে। মকাকে দেখতে যাওয়া আরেক দর্শনার্থী তোফায়েল আহাম্মদ বলেন, এত বড় গরু আমি আর দেখিনি। আমার মনে হয় এটি ফেনী জেলার মধ্যে বড় গরু। ফেনীর এই ‘মকা’ কতো দামে বিক্রি হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার কোরবানির জন্য ফেনীর ছয়টি উপজেলায় গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৫২৫টি। এরমধ্যে ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ৯২৭টি বেশি। জেলায় গরু রয়েছে ৭১ হাজার ৫৬৯টি, ছাগল ১৩ হাজার ২২৯টি, মহিষ ১ হাজার ৭৩৫টি ও ভেড়া ৩ হাজার ৯১৯টি। গবাদিপশুর সংখ্যায় উপজেলাভিত্তিক এগিয়ে ছাগলনাইয়া।
পশুর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩৬০টি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানায়, জেলার ৬ উপজেলায় এবার স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসছে ১২৯টি হাট। এরমধ্যে অস্থায়ী হাট ১১৪টি ও স্থায়ী হাট রয়েছে ১৫টি। ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলার ৫ হাজার ৪০৭টি খামারে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ৩৭টি মেডিকেল টিম খামার ও পশুর হাটের তদারকিতে রয়েছেন। ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মু. সাইফুল ইসলাম জানান, পশুর হাটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে।
বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এম.এম জিল্লুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকাতে ও কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধকল্পে সীমান্ত এলাকায় পাহারা জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, পশুরহাট কোনোভাবেই সড়ক-মহাসড়কের উপর বসানো যাবে না। এ ছাড়া বিভিন্নস্থান থেকে আসা পশু বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
