আমাদের যে প্রতিশ্রুতি সেটা পরিপূর্ণ করবো

আমাদের যে প্রতিশ্রুতি সেটা পরিপূর্ণ করবো

ফন্ট সাইজ:

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের সময় আমাদের যে কমিটমেন্ট, নির্বাচনী ম্যান্ডেটে আমরা যে কমিট করেছি। আমাদের চেয়ারপারসন, প্রধানমন্ত্রী যে কমিট করেছেন সেটা আমরা ফুলফিল করবো। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকারগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারগুলোতে জনপ্রতিনিধি নেই-এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এগুলোতে যত দ্রুত সম্ভব আমরা নির্বাচনের ব্যবস্থা করবো। একদিনে তো সম্ভব নয়, আমরা ইমিডিয়েটলি ট্রাই টু গো ফর দ্যাট (আমরা শিগগির সেদিকে যাচ্ছি)। সরকারের চ্যালেঞ্জটা কী- জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছি আমরা। চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে টু বিল্ড দ্য নেশন (দেশকে গড়ে তোলা)। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যিনি আমাদের এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার প্রথম কথাটি ছিল বাংলাদেশের জন্য, আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান (আমার একটা পরিকল্পনা আছে)। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি তার মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। মন্ত্রিসভা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, বাংলাদেশের মানুষের সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের দিকে। ডেমোক্রেসি হচ্ছে আমাদের প্রধান ইনগ্রেডিয়েন্ট (উপাদান), যাকে নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের সবকিছুর মধ্যেই গণতন্ত্র থাকবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এটার পুরোপুরি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, একেবারে তৃণমূল মানুষের সঙ্গে। আমার একটা অ্যাডভান্টেজ আছে, আমি কিন্তু একসময় নিজে লোকাল গভর্নমেন্টে ছিলাম বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা এ জিনিসগুলো সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখি। আমি বিশ্বাস করি যে, আপনাদের এ মন্ত্রণালয়কে অত্যন্ত ডাইনামিক (গতিময়) একটা মন্ত্রণালয়ে পরিণত করতে পারবো। মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে পারবো। দেশের আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ভঙ্গুর- সে বিষয়ে কী উদ্যোগ নেবেন জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, না না, অতটা খারাপ না। আপনারা যতটা খারাপভাবে দেখছেন, অতটা খারাপ না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ইমপ্রুভ হয়েছে। অর্থনীতি ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি (ব্যাষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা) এটা অনেক ফিরে এসেছে। ব্যাংক তো অনেকটা কন্ট্রোলে এসেছে। এগুলো তো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমরা মনে করি, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটা আরও ভালো করতে পারবো। গত দেড় বছর ব্যাপক মবজাস্টিস হয়েছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল বলেন, অবশ্যই। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে। একটা বড় ঝড় গেছে আমাদের। একটা বিপ্লব হয়েছে, বিদ্রোহ হয়েছে, গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। এসব মুহূর্তের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে এটা মনে করার কারণ নেই। এক-দেড় বছর আমরা পার করেছি একটা ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের অধীনে। তারা একটা ইলেকশন দিয়ে গেছে। ইলেকশন করে একটা গভর্নমেন্ট হয়েছে- ইলেকটেড গভর্নমেন্ট হয়েছে। এটাই তো একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট। আমি তো মনে করি, দ্যাটস অলসো এ ভেরি বিগ অ্যাচিভমেন্ট। আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, এটা কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সবাই বলছে এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন (অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন) হয়েছে এবং এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন হয়েছে বলেই আজ এটা একসেপ্টেবল টু অল (গ্রহণযোগ্য) হয়েছে, সবার কাছে। আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা আমরা পলিটিক্যালি পরে আপনাদের জানাবো। আমাদের গভর্নমেন্টের আলোচনার পরে জানাবো। অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন কি না-এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজন নেই। কারণ তারা একটা বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছে। সেই সময়, আমি মনে করি আমার দলও মনে করে যতটুকু প্রয়োজন ছিল, তারা সেই কাজের সিংহভাগ করতে পেরেছে। মূল সমস্যাটা কী ছিল? ট্রানজিশন টু ডেমোক্রেসি। সেটা তো তারা করে দিয়ে গেছে। সুতরাং ইউ মাস্ট গিভ ক্রেডিট টু দেম (তাদের সেই কৃতিত্ব) দিতেই হবে। তারা অনেক ভালো কাজ করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন