খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক পথ) ঠিকাদার সমিতির দখল নিতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাবেক সহ-সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ (৬২) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর খানজাহান আলী রোডস্থ আল-হেরা জামে মসজিদের তৃতীয়তলায় অফিস ভবনে ঘটনাটি ঘটে। আহত ঠিকাদার খালিশপুর থানার নয়াবাটি এলাকার বাসিন্দা শেখ আব্দুর রউফের ছেলে। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খানজাহান আলী সড়কের আল- হেরা জামে মসজিদের আশপাশের কয়েকজন ব্যক্তি জানান, দুপুরের কিছুক্ষণ আগে খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক পথ) কার্যালয়ে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের আগের কমিটি ও বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিটি ওই সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদের ডান পায়ের ঊরুতে বিদ্ধ হয়। নিজের অস্ত্রেই তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেন ঘটনাস্থল উপস্থিত ঠিকাদার তবিবুর রহমান। পরে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত সমিতির বর্তমান আহ্বায়ক এসএম আজিজুর রহমান স্বপন জানান, আমার এলাকার এক বন্ধু মারা গেছে। আমি সেখানে ছিলাম। হঠাৎ অফিস স্টাফ শাহাদাত হোসেন ফোন করে জানায়, সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কেএম রেজাউল আলম ও হারুনুর রাশিদসহ কয়েকজন অফিস দখল করতে আসছেন। তারা সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। আমি অফিসে এসে দেখি তারা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের চেয়ার দখল করে বসে আছেন। তখন তাদের কাছে আমি বলি- ‘আপনাদের কোনো দাবি-দাওয়া থাকলে আমার কাছে লিখিত দেন’। এ সময়ে সাধারণ সদস্যরা বলেন যে, ‘এটা কি গরুর হাট যে আপনারা দখল করছেন’।
এদিকে খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির ৫ই আগস্টের আগের সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ সমর্থিত খান মো. রেজাউল আলম বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়া হারুনুর রশিদ সাবেক সহ-সভাপতি। জামায়াতের অনুসারী এসএম আজিজুর রহমান স্বপন নিজেকে আহ্বায়ক দাবি করে মব সৃষ্টি করে অফিস দখল করে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আমরা হাইকোর্টে মামলা করি। মামলাটি আমাদের পক্ষে। সেই মামলার আদেশে আমরা আজ অফিসে গিয়ে আসন গ্রহণ করি। তখন তারা এসে আমাদের আসন ছেড়ে দিতে বলে। তারা কোর্ট বা কোনো কিছু মানে না। তারা শটগান দিয়ে গুলি করে। তিনি এ ঘটনার জন্য স্বপনের লোকদের দায়ী করেন।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিজেদের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। একপর্যায়ে হারুনুর রশিদ গুলিবিদ্ধ হন। কারা গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উভয়পক্ষের লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
