রাজধানীর মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহের বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে। তিন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ জালিয়াতি, কর ফাঁকি ও তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে শত শত কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল। ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে। তদন্তে প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে ৪৩৬ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও এর কোনো বিল-ভাউচার পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির মাধ্যমে সরকারের অন্তত ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের একাডেমিক উন্নয়ন ও নগর ভাতার নামে আরও ৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে বিধি-বহির্ভূতভাবে।
নিজস্ব প্রিন্টিং প্রেস থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নপত্র ও সিলেবাস ছাপানোর নামে ১১ কোটি টাকার বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি এটিকে আত্মসাৎ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এছাড়া ম্যাগাজিন প্রকাশ না করেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১২ বছরে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। ক্যান্টিন ভাড়া, গাড়ি ক্রয় ও বিজ্ঞাপন ব্যয়েও মিলেছে বড় ধরনের গরমিল।
অন্যদিকে, সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে ডিআইএ। তদন্তে ৩৮ ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ নিয়োগ, দ্বিগুণ উৎসব ভাতা গ্রহণ, পিপিআর বহির্ভূত কেনাকাটা, কর ফাঁকি ও হিসাব জালিয়াতি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের ৬৮ জন শিক্ষকের এনটিআরসিএ নিবন্ধন সনদ নেই। ফলে তাদের নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি।
একই সঙ্গে ১৫২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বেতন দেয়া হয়েছে। সাবেক ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক দ্বিগুণ উৎসব ভাতা নিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বিদ্যালয়টির প্রায় ৮ কোটি টাকা বিভিন্ন বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এফডিআর করা হয়েছে। এছাড়া ভ্যাট ও আয়কর বাবদ এক কোটির বেশি টাকা ফাঁকির তথ্যও পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহের বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে তদন্তেও উঠে এসেছে ভয়াবহ নিয়োগ জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতির চিত্র। ডিআইএ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক নিজেই নিয়োগ বোর্ডে থেকে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে চাকরি দিয়েছেন। একই পদে মা ও ছেলেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেখানোর ঘটনাও ধরা পড়েছে। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, জাল সনদ, ব্যাকডেট নিয়োগপত্র ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রায় ৪ কোটি টাকা সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।
অধ্যক্ষ ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে ভুয়া স্নাতকোত্তর সনদ ব্যবহার এবং অবৈধভাবে এমপিওভুক্তির অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। তাকে ৪১ লাখ টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ডিআইএ’র তদন্তে আরও জানা গেছে, কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৭০ জন। অথচ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ৭৬ জন। এর মধ্যে ৭৩ জনের নিয়োগেই প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ডিআইএ তাদের তদন্ত কাজ চলমান রেখেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সামনে আরও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে আসার পর এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

not interested
২ মাস আগেwhy "Hoobak"? every school is like this.