নেত্রকোণায় বোরো ফসলহানি ক্ষতিগ্রস্ত ৫৭ হাজার ৪১৩ কৃষকের তালিকা মন্ত্রণালয়ে

ফন্ট সাইজ:

নেত্রকোণার ১০টি উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৭ হাজার ৪১৩ জন কৃষকের তালিকা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এ সুপারিশ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ যাচাই বাছাই শেষে উপজেলা পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিনটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান, পাট, শাকসবজিসহ নানা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষকের বছরের একমাত্র বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পাঠানো তথ্যমতে, মোট ক্ষতিগ্রস্ত ৫৭ হাজার ৪১৩ জন কৃষকের মধ্যে ‘ক’ শ্রেণিতে (সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত) রয়েছেন ১৯ হাজার ১৬৯ জন, ‘খ’ শ্রেণিতে (মধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত) ২৭ হাজার ৯৮৩ জন এবং ‘গ’ শ্রেণিতে (আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত) রয়েছেন ১০ হাজার ২৬১ জন কৃষক। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হবে। সহায়তার আওতায় নগদ অর্থ, খাদ্যশস্য, বীজ ও কৃষি উপকরণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ফসলহানির কারণে অনেক পরিবার ঋণের বোঝা ও খাদ্য সংকটে পড়েছে। সময়মতো সহায়তা পেলে তারা আবার নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ছিল ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমি। জেলায় মোট ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৯০ টন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদনে সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৪৩ টন ধান, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন