তাইজুলের ঘূর্ণিতে সিলেটে রোমাঞ্চের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

তাইজুলের ঘূর্ণিতে সিলেটে রোমাঞ্চের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

সিলেটে ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এরা দু’জন ১৩৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচটাই নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখনই নতুন বলে পেসার শরিফুলের সঙ্গে অন্য প্রান্ত দিয়ে স্পিনার তাইজুল ইসলামকে আক্রমণে আনলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম বলে ফুলটস দিয়ে বাউন্ডারি হজম করলেন তাইজুল।

কিন্তু ওই ওভারেই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দিলেন তিনি সালমান আলি আগাকে। প্রমাণ হলো, বাংলাদেশ অধিনায়কের ভাবনাই সঠিক ছিল। পরের ওভারে তাইজুল এনে দিলেন আরও একটি উইকেট। শেষ বিকালের মোড়ে আশার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠলো বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা। পাকিস্তানের শান্ত্বনা বলা চলে, ম্যাচ পঞ্চম দিনে নিতে পারা। সিলেট টেস্ট জিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন আর ৩ উইকেট। বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিততে হলে সফরকারীদের প্রয়োজন আরও ১২১ রান। এর আগে মিরপুরে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

দিনের শুরুতেই পেসার নাহিদ রানা ও স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ সূচনা এনে দেন। নাহিদের বাউন্সারে আব্দুল্লাহ ফাজাল ৬ রান করে গালিতে মিরাজের হাতে ধরা পড়েন। এরপর মিরাজের স্কিড করা আর্ম বলে এলবিডব্লিউ হন আজান আওয়াইস, যিনি করেন ২১ রান। কিন্তু এরপর বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ দ্রুত রান তুলে চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। বাবরের ৫২ বলে ৪৭ এবং মাসুদের ৭১ রানের ইনিংসে ভর করে তারা দু’জন ৯২ রানের বিপজ্জনক জুটি গড়ে তোলেন। এরপরই সবচেয়ে বড় ধাক্কা তাইজুল দিয়েছেন ৪৫তম ওভারের তৃতীয় বলে। তাতে মাহমুদুল হাসান জয়ের কৃতিত্বই বেশি। মাসুদের ব্যাটের কোণায় লেগে যাওয়া বল ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ডাইভ দিয়ে দারুণভাবে ধরেন জয়। পাকিস্তানি অধিনায়কও বিশ্বাস করতে পারেননি কীভাবে জয় ক্যাচটা
ধরেছেন।

সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে ২৯ রান দূরে থাকতে আউট হয়েছেন মাসুদ। ১১৬ বলে ৮ চারে করেন ৭১ রান। পাকিস্তান অধিনায়কের এটা টেস্টে ১৪তম ফিফটি। মাসুদের বিদায়ে পাকিস্তানের স্কোর হয়ে যায় ৪৪.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬২ রান। মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট পতন যেখানে পাকিস্তানের ক্রিকেটে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকরা আশায় বুক বাঁধছিলেন কখন শেষ হবে খেলা। কিন্তু টেস্ট খেলা যে এমনই। সেই খেলায় স্বাগতিকদের
ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন সালমান-রিজওয়ান। অবশেষে ৮২তম ওভারের পঞ্চম বলে সালমানকে আর্ম ডেলিভারিতে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন তাইজুল। ১০২ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৭১ রান করেন সালমান। ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে ক্ষোভও ঝেড়েছেন তিনি। তাদের ১৩৪ রানের পার্টনারশিপ টানা তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে স্বাগতিকদের হতাশায় ডুবিয়ে রাখে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে রিজওয়ান ১৩৪ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করেন। রান তোলার পাশাপাশি তারা দারুণভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে লিটনের সঙ্গে রিজওয়ানের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়। সালমানকে ফেরানোর পর হাসান আলীকে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় করেন তাইজুল। প্রথম সিøপে ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন শান্ত।

তাইজুলের জোড়া আঘাতে ৮৩.২ ওভারে ৭ উইকেটে ৩০৪ রানে পরিণত হয় পাকিস্তান। সফরকারীরা এরপর ১৬ বল খেলার পর দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ ওভারে ৭ উইকেটে তাদের স্কোর এখন ৩১৬। দিনশেষে সাজিদ খান ৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। আজ পঞ্চম দিনে বাকি কাজটুকু সারতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল।

এর আগে লিটন দাসের সেঞ্চুরির পরও ২৭৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ২৩২ রানে থামে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। মুশফিকুর রহীমের ১৪তম সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান করে বাংলাদেশ।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন