কিশোরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার, কারখানা মালিক গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

সরাইলে কিশোর আবেদ আলীর (১৭) গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হলুদ-মরিচ ভাঙানোর কারখানার মালিক বাহালুল আলম (৪৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবেদ এই কারখানার কর্মচারী ছিল। গতকাল সন্ধ্যায় নিহতের বড় ভাই উমেদ আলী বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরকীয়ার ঘটনা থাকার বিষয়টি এখন চাউর হচ্ছে এলাকায়। পুলিশ বলছেন, হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু এখনো পায়নি। তবে তদন্ত চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অরুয়াইল ইউনিয়নের রানিদিয়া গ্রামের বাহালুল আলমের হলুদ-মরিচ ভাঙানোর কারখানা রয়েছে অরুয়াইল দক্ষিণ বাজার এলাকায়। সেই কারখানায় কর্মচারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে আবেদ আলী। সে পাকশিমুল ইউনিয়নের কালিশিমুল গ্রামের মতি মিয়ার ছেলে। আবেদ আলী কাজ শেষ করে গিয়ে বাহালুলের বাড়িতেই রাত্রিযাপন করতো। প্রায় ছয় মাস পূর্বে কারখানার কাজে ছেলে আবেদ চলে গিয়েছিল। প্রায় এক মাস আগে আবারো এই কারখানায় যোগদান করে আবেদ আলী।

অন্য দিনের মতো গত রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কাজ শেষ করে রানিদিয়ার উদ্দেশ্যে চলে যায় আবেদ। সোমবার দুপুর পর্যন্ত আর ফিরেনি। ওইদিন দুপুরের দিকে হাওর এলাকা অরুয়াইল-রাজাপুর গ্রামীণ সড়কের পাশে দুবাজাইল এলাকায় পানিতে একটি গলাকাটা লাশ দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। পুলিশ প্রথমে অজ্ঞাত পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শনাক্ত করার পর আবেদ আলীর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সোমবার গভীর রাতে কারখানার মালিক বাহালুল আলমকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। মঙ্গলবার নিহত কিশোরের ভাই উমেদ আলী বাদী হয়ে সরাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরকীয়ার ঘটনা থাকার বিষয় চাউর হচ্ছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অরুয়াইল বিটের দায়িত্বে থাকা এস.আই টিপু সুলতান বলেন, আমরা এখনো এই হত্যাকাণ্ডের সুস্পষ্ট কোনো ক্লু পাইনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে কারখানার মালিক বাহালুলকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রকৃত খুনিদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন