আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে গবাদিপশুর বাড়তি যত্ন নিয়েছেন চৌগাছার খামারিরা। খামারের পাশাপাশি এসব পশু বেচাকেনা হচ্ছে স্থানীয় হাট-বাজারেও। সরকারি হিসেবে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে চলতি বছরে উপজেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ১৬ হাজার গবাদিপশু। যা উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে ৫ হাজার পশু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা যাবে। তবে বেসরকারি হিসেবে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে কম পক্ষে ১০ হজার পশু উপজেলার বাইরে বিক্রি করা যাবে বলে খামারিদের ধারণা। তবে খাদ্যের দামের তুলনায় গরুর দাম কম হওয়ায় খামারিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে। খামারিরা বলছেন, খাদ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, সে তুলনায় গরুর দাম বলছেন না ক্রেতারা।
তাই সব মিলিয়ে কিছুটা লোকসান গুনতে হতে পারে খামারিদের। পৌরসভার বেলেমাঠ এলাকার আবুল কাশেমের এমএ পাস ছেলে আব্দুল লতিফ। সে ২০১৫ সাল থেকে গরু মোটাতাজাকরণ করে আসছে। তার খামারে ১৫টি গরু রয়েছে। কোরবানির আর মাত্র ৯ দিন বাকি। তিনি বলেন, এ বছর বাজারে ক্রেতা কম। ক্রেতারা দামও কম বলছেন। তিনি বলেন, দিন দিন গো-খাদ্যের দাম বাড়ালেও গরুর দাম তেমন বাড়ছে না। যে কারণে ছোট খামারিদের টিকে থাকাই কষ্টকর। তিনি আশা করছেন, এই সময়ের মধ্যে তার গরুগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়ে যাবে। পৌরসভার বেড়বাড়ি এলাকার সুমন বলেন, ২৫টি গরু ৭-৮ মাস ধরে মোটাতাজা করেছি।
‘আমার খাদ্য কম কিনলেই হয়। জমিতে ঘাস লাগানো আছে। সেখান থেকে খাবারের চাহিদা মিটে যায়। কোরবানির বাজারে গরুর চাহিদা কম থাকায় গোশতের বাজারে বিক্রি করেছি। এতে ভালো লাভ হয়েছে’। উপজেলার রাজাপুর গ্রামের হামিদ, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বগা বলেন, তারা চারটি করে গরু মোটাতাজা করেছেন। তারা এখনো বিক্রি করতে পারেনি। স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী মান্নান, আলিম, নুরুজ্জমান জানান, চৌগাছার পশুহাটে ঈদের আগের হাটগুলেতে কয়েক কোটি টাকার কেনা-বেচা হয়। কিন্তু এ বছরে এখনো সে রকম ক্রেতা সমাগম হচ্ছে না।
অন্যদিকে বেশি টাকা দিয়ে গরু কিনে মোটাতাজা করেছেন খামারিরা। এ ছাড়া পশু খাদ্যের দামও অনেক বেশি যে কারণে কম মূল্যে বিক্রি করার সুযোগ নেই খামারিদের। একজন খামারি বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদের হিসাবের চেয়ে উপজেলায় কয়েকগুণ বেশি গবাদিপশু রয়েছে। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা সম্ভব। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আনোয়ারুল কবির বলেন, খামারিরা এবার ন্যায্যমূল্যে গরু বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছি।
