প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দু’টি তদন্ত কমিশন গঠন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা হাইকোর্টের দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এই দু’টি কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরে সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু।
নির্বাচনের প্রচারণার সময় এই দুই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সরকার গঠনের ১০ দিনের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দু’টি তদন্ত কমিশন গঠন করা হলো।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে গঠিত কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। কমিশনের সদস্যসচিব করা হয়েছে রাজ্যের সিনিয়র আইপিএস কে জয়রামনকে। তিনি বর্তমানে এডিজি (উত্তরবঙ্গ) পদে রয়েছেন। অন্যদিকে, নারী এবং শিশুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। এই কমিশনে সদস্যসচিব হিসেবে থাকবেন আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন। তিনি বর্তমানে এডিজি (আর্মড ফোর্স) পদে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই দু’টি তদন্ত কমিশনই আগামী ১লা জুন থেকে কাজ শুরু করবে। শুভেন্দু বলেন, বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প, বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। কাটমানি নেয়া হয়েছে। ঘুষ দেয়া-নেয়া হয়েছে। সরকারি তহবিলের অপচয় হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে সরকারি আধিকারিক, পঞ্চায়েত, কাউন্সিলর, দালাল অনেকে যুক্ত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে ডেডিকেটেড পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে।
পুরনো যে অভিযোগ বা এফআইআর যেগুলো পড়ে আছে, সেগুলো কালেক্ট করা হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি), এসসি কমিশন, এসটি কমিশন, ওবিসি কমিশন, সংখ্যালঘু কমিশন, শিশু ও নারী অধিকার কমিশন, রাজ্য এবং কেন্দ্রের যত সুপারিশ এখনো পর্যন্ত পড়ে রয়েছে, সেগুলো কমিশন প্রাথমিক ভাবে নিয়ে নেবে।
এদিকে, ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে ইমাম ও পুরোহিত ভাতা হিসেবে চালু ভাতাগুলোর অবলুপ্তি ঘটিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। প্রকল্পগুলো আগামী মাস থেকে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তর, সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীনে এই ধরনের যে প্রকল্পগুলো ছিল, সেগুলো আগামী মাস থেকে বন্ধ হয়ে যাবে। পূর্বতন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইমাম ও পুরোহিতদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করেছিল।
অন্যদিকে, রাজ্যের পূর্বতন সরকারের আমলে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) প্রশংসাপত্র নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই জটিলতা দূর করতে আদালত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছিল। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই বিষয়ে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার। অগ্নিমিত্রা পাল জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ চাকরি এবং সরকারি পদে ওবিসি সংরক্ষণের শতকরা হার, রাজ্য তালিকাভুক্ত ওবিসি তালিকা পুনর্বিবেচনা এবং উপ- শ্রেণিবিভাগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়। তিনি বলেন, নতুন করে ইনকোয়ারি হবে। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যে গোষ্ঠীগুলোকে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
