কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তালাবদ্ধ নিজ কারখানা থেকে জিল্লুর রহমান (৪০) নামে কারখানা মালিকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার বিকাল থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতের স্ত্রী বাড়িতে সংরক্ষিত চাবি নিয়ে কারখানা খুলে দেখতে গিয়ে স্বামীর লাশ দু’টি মেশিনের মাঝে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
সোমবার সকালে উপজেলার পৌর এলাকার ভোগপাড়া মহল্লার কটিয়াদী-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে নিজ প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। জিল্লুর রহমান পার্শ্ববর্তী মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরগোহালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি সপরিবারে কটিয়াদীতে বসবাস করে ব্যবসা করতেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কটিয়াদী সার্কেল মো. তোফাজ্জল হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পর থেকে পিকআপ চালকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা যায়, ভোগপাড়া মহল্লায় কারখানা স্থাপন করে ‘ওয়ান টাইম প্লেট অ্যান্ড গ্লাস’ তৈরি করতেন তিনি। তার কারখানায় দুইজন নারীকর্মী ও একজন পিকআপ ড্রাইভার ছিলেন। প্রতিষ্ঠান মালিক নিজেও কাজ করতেন। মাঝে মাঝে কাঁচামালের প্রয়োজনে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় দু’-একদিনের জন্য নিজেও যেতেন, ড্রাইভারকেও পাঠাতেন। শুক্রবার বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। তারপর থেকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সোমবার সকালে স্ত্রী অন্তরা ও পরিবারের সদস্যরা প্রতিষ্ঠানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে রক্তাক্ত মরদেহটি মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের মুখে ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে তার পিকআপ চালকের পরিচয় বা সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। চারদিন ধরে নিখোঁজ থাকার বিষয়টিও থানাকে অবগত করেনি পরিবারের কেউ। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন আছে।
