পাওনা ৪৩০ টাকা চাইতে গিয়ে খুন

নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের রায়

ফন্ট সাইজ:

বাকিতে চাল বিক্রির ৪৩০ টাকা চাইতে গিয়ে ২১ বছর আগে খুন হয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চাল ব্যবসায়ী রুস্তম আলী। ১৮৬ ধার্য তারিখ ও শুনানি শেষে সোমবার কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারক মো. মাহবুব সোবহানী ঘাতক হবিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থ অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া রায়ে এ মামলার অন্য আসামি মুজিবুর রহমান ৫৫ দিন কারাবাস ভোগ করায় সে সহ অন্য ৪ আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। কারাদণ্ডে দণ্ডিত ঘাতক হবি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গত ২১ বছর ধরে পলাতক রয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিকাল অনুমান ৫টার সময় চাচাতো ভাই তারাপাশা গ্রামের আবদুল মোমেনের কাছে ৩৮০ টাকা, হবির কাছে ৪৩০ টাকা এবং তাদের অপর ভাই মজিবুরের কাছে বাকিতে চাল বিক্রির ৩৯০ টাকার তাগিদ দিতে যান চাল ব্যবসায়ী রুস্তম আলীর ছোট ভাই হায়দার আলী। সে সময় কথাকাটাকাটি থেকে ঋণগ্রস্ত আবদুল মোমেন ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহোদর হবি, মুজিবুর ও হাবিবুরকে নিয়ে হায়দার আলীর ওপর হামলা করে। এ খবর পেয়ে বড় ভাই চাল ব্যবসায়ী রুস্তম আলী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং হবির হাতে থাকা কাঠের তৈরি ইটা ভাঙার মুগুর দিয়ে রুস্তম আলীর মাথায় সজোরে আঘাত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১৫ই ফেব্রুয়ারি ভোরে রুস্তম আলীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের অপর ভাই হাতেম আলী বাদী হয়ে হোসেনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ২০০৫ সালের ৩১শে মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন