সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে আরেকটি জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ৪৩৭ রানের বিশাল লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিডের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান যোগ করে চালকের আসনে বাংলাদেশ। লিটন দাসের ৬৯ এবং মুশফিকুর রহীমের দুর্দান্ত ১৩৭ রানের ওপর ভর করে বড় পুঁজি পায় তারা। দলের বিশাল সংগ্রহের পেছনে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
সপ্তম উইকেটে রহীমের সঙ্গে ৭৭ রানের লড়াকু জুটি গড়েন তিনি। ৫১ বলে ২২ রান করে সংগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করেন এই বাঁহাতি। ম্যাচ শেষে নিজের ব্যাটিং ও পার্টনারশিপ নিয়ে তাইজুল বলেন, ‘পার্টনারশিপটা অবশ্যই হেল্প করেছে। বাট আসলে এখানে স্যাটিসফাইড হওয়ার মতো কোনো বিষয় না। আরো একটু লম্বা করতে পারলে হয়তোবা টিমের জন্য আরো ভালো হতো।’ ইদানীং লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের ব্যাটিং নিয়ে বেশ সিরিয়াস টিম ম্যানেজমেন্ট। তাইজুল আরও বলেন, ‘কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে প্লেয়াররাও এদিকে খুব আগ্রহ যে আমরা যাতে কিছুটা কন্ট্রিবিউট করতে পারি। বলিংয়ের পাশাপাশি যখন ২০-৩০টা রান করতে পারবো এটা অবশ্যই একটা বিগ অ্যাডভান্টেজ।’
ম্যাচের দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে উত্তাপ বাড়ে। চা-বিরতির আগে সময় নিচ্ছিলেন রহীম। পাকিস্তান চাইছিল বাড়তি ওভার। নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা রহীমের দিকে তেড়ে আসেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। দুজনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। স্লিপে থাকা সাউদ শাকিল স্ট্রাইক প্রান্তে তাইজুলকে স্লেজিং করেন। আগ্রাসী জবাব দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তাইজুল বলেন, ‘তারাও দীর্ঘসময় ফিল্ডিং করছিল এজন্য টেম্পারমেন্ট ধরে রাখতে পারে নাই। সাউদ আমাকে বলছিল যে তুমি ব্যাটিং করতে আসো। আসলে এটা তো ওর বিজনেস না, এটা আমার বিজনেস ব্যাটিং করাটা।’ পরের বলেই খুররম শাহজাদ বাউন্সার ছোঁড়েন। পুল শটে সেটি বাউন্ডারিতে পাঠান তিনি। এই শট নিয়ে তাইজুল বলেন, ‘এটা ব্যাটিং করতে গেলে আসলে বলটা ওরকম ছিল আরকি।’
বিশাল রান তাড়া করা পাকিস্তানের জন্য সহজ নয়। চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৭ রান তাড়া করে জেতা অসম্ভব মিশন। তবে উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের উপযোগী। প্রথম ইনিংসে উইকেটের পেছনে সুবিধা না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে বোলাররা ছন্দে আছেন। দলের লক্ষ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তাইজুল। বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের টিমের অবস্থানটাও এখন অনেক ভালো। আমরা যখন ভালো কিছু করব অনেক বড় বড় টিমকে হারানো আমাদের জন্য ইজি হবে। আমাদের রোলটা গত ইনিংসের মতোই থাকবে, রান কন্টেইন করে উইকেট আনা। উইকেট যেরকম ভালো আছে সেরকম আমাদেরও ডিসিপ্লিন থাকতে হবে।’ এখন স্পিনারদের পাশাপাশি পেসাররাও দারুণ বল করছেন। পাঁচজন বোলার ভালো করায় একক চাপ কমেছে। স্পিন বিভাগে হাসান মিরাজের সঙ্গে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার ছক কষছেন এই বাঁহাতি।
ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি জুনিয়রদের অনুপ্রাণিত করছে। বিশেষ করে রহীমের সেঞ্চুরি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। মাঠে জুনিয়রদের নানা পরামর্শ দিয়ে খেলা সহজ করেন তিনি। সিনিয়রদের ভূমিকা প্রসঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ স্পিনার তাইজুল বলেন, ‘১০-১২-১৫ বছরের অভিজ্ঞতা অন্যরকম একটা জিনিস। একটা টিমে তিন-চারজন সিনিয়র পারসন থাকাটা ব্লেসিং। তারা আগে থেকেই বুঝতে পারে সিচুয়েশন কি হতে যাচ্ছে বা কি করা উচিত। সিনিয়র প্লেয়ার যখন এরকম কন্ট্রিবিউশন করে তখন অন্য প্লেয়াররা উৎসাহিত হয় যে ওই জায়গাটা কিভাবে ধরতে হবে।’
