হাল ছাড়েনি পাকিস্তান

হাল ছাড়েনি পাকিস্তান

ফন্ট সাইজ:

সিলেট টেস্টে চালকের আসনে বাংলাদেশ। জিততে হলে রান তাড়ার বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে পাকিস্তানকে। ব্যাটাররা সাহসী ও দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেললে এ রান তাড়া করে জেতা সম্ভব বলে মনে করেন পাকিস্তানের পেস বোলিং কোচ ওমর গুল। ড্র নয়, বরং জয়ের জন্য মাঠে নামবে পাকিস্তান- বলেছেন সাবেক ডানহাতি পেস বোলার।

ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে ব্যাকফুটে পাকিস্তান দল। সিলেটের যা কন্ডিশন তাতে বাকি দুই দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে পরিস্থিতি যেমন হোক না কেন মানসিকভাবে প্রস্তুত পাকিস্তান দল। ওমর গুল বলেন, ‘আমাদের হাতে আরও দুই দিন সময় আছে। যদিও আকাশ মেঘলা থাকতে পারে বা বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, তবুও আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত যে যথেষ্ট সময় রয়েছে। আমরা যদি পুরো সময়টা ব্যাটিং করতে পারি, তবে জেতার সুযোগ আছে। কারণ আমরা কেবল ড্রয়ের জন্য খেলছি না। দুই বা তিনটি ভালো পার্টনারশিপ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে।

৪৩৭ রান তাড়া করতে হলে আপনাকে সাহসী হতে হবে এবং ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে। ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’ দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন ১০ উইকেট নেন বোলাররা। দ্বিতীয় দিনে পড়েছে ১৩ উইকেট। তৃতীয় দিনে ৭ উইকেট নেন বোলাররা। প্রথম দিনের চেয়ে পরের দুই দিন ব্যাটিং সহায়ক উইকেট ছিল বলে মনে করেন গুল। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, প্রথম দিন ময়েশ্চার (আর্দ্রতা) থাকার কারণে উইকেট থেকে বোলাররা সুবিধা পেয়েছিল, কিছুটা সিম ও সুইং ছিল।

তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে আমি বলবো উইকেট ব্যাটারদের জন্য পুরোপুরি আদর্শ। বল খুব সুন্দরভাবে ব্যাটে আসছে এবং ব্যাটাররা শট খেলার জন্য যথেষ্ট সময় পাচ্ছে। পিচ এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো।’
বাংলাদেশের পেসারদের দাপটের মুখে নিষ্প্রভ পাকিস্তানের বোলাররা। এ নিয়ে দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা সমালোচনার ঝড় তুলছেন। তবে দায়টা নিজেদের বোলারদের কাঁধে দিতে চাইলেন না গুল। তিনি বাংলাদেশের ব্যাটারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। গুল বলেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশের ব্যাটাররা খুব ভালো খেলেছে। কিছু ক্ষেত্রে আমাদের ‘প্লে অ্যান্ড মিস’ হয়েছে কিন্তু আমরা দুর্ভাগ্যবশত উইকেট পাইনি।

এছাড়া আমরা কিছু রিভিউ নেয়ার সুযোগ মিস করেছি। সেগুলো ঠিকঠাক হলে হয়তো ওদের দ্রুত অলআউট করা যেত, বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে। ভাগ্যের সিদ্ধান্ত কখনো পক্ষে যায়, কখনো যায় না; এটা খেলারই অংশ।’ ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস কিংবা শোয়েব আখতারের দেশের পেসারদের গতি ইদানীং কমে যাওয়া প্রসঙ্গে ওমর গুল লাল বলের ক্রিকেটের ঘাটতিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘সাদা বলের ক্রিকেট বা পিএসএলে আমাদের বোলাররা নিয়মিত ১৪০ কিমি বা ১৩৫+ গতিতে বল করে। কিন্তু টেস্টে তাদের গড় গতি কমে যায়।

এর কারণ হলো, দুর্ভাগ্যবশত আমরা পর্যাপ্ত টেস্ট ম্যাচ খেলি না। নিয়মিত রেড-বল ক্রিকেট না খেললে বোলিং পেশি এবং ‘বোলিং মেমোরি’ তৈরি হয় না, যা লংগার ফরম্যাটের জন্য মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করে। আমাদের শেষ টেস্ট সিরিজ ছিল ৬ মাস আগে, অক্টোবরে। এত দ্রুত সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট থেকে টেস্টে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। তবে গরম ও আর্দ্রতার মধ্যেও ছেলেরা শতভাগ চেষ্টা করেছে।’ বাংলাদেশের নতুন পেস সেনসেশন নাহিদ রানাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক এই কিংবদন্তি পেসার।

গুল বলেন, ‘যেকোনো দলের জন্যই ১৪০+ গতিতে বল করতে পারা বোলার থাকাটা পরম সৌভাগ্যের। এটি ব্যাটারদের বিপক্ষে শর্ট বল ব্যবহারের ক্ষেত্রে দারুণ সুবিধা দেয়। গতি সব ফরম্যাটেই ম্যাটার করে। নাহিদ রানার সেই সামর্থ্য আছে এবং সে এখনো তরুণ। আমি আশা করি এবং দোয়া করি সে ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করবে। সে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক বড় সম্পদ এবং তার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন