যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নৌবন্দরের জয়েন্ট ট্রেডিংয়ের মালিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী আনিছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের এজাহারনামীয় প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল গভীর রাতে যশোর শহরের একটি বাসা থেকে যশোর ডিবি পুলিশের একটি টিম তাকে আটক করে। আটক শাহ মাহমুদ নওয়াপাড়ার পীর বাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে। সে তার আইনজীবীর সহায়তায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের নওয়াপাড়া বাজারে ‘আনিস প্লাজা’ নামে একটি বহুতল মার্কেট ও বাসা-বাড়ি রয়েছে। শাহ মাহমুদ ‘ওই মার্কেট ও বাসা-বাড়িতে একটি বাসা ভাড়া নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আনিছুর রহমান তাকে বাসা ভাড়া দিতে রাজি হয় না। যা নিয়ে শাহ মাহমুদের সঙ্গে হাজী আনিসুর রহমানের বিরোধ চরমে ওঠে। তারই জের ধরে শাহ মাহমুদ সঙ্গীয় লোকজন নিয়ে গত ৬ই মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনিছুর রহমানকে তার বাড়ির সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ওইদিন রাতেই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে তিনি মারা যান। হত্যার পর থেকেই প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটক ও বিচার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশের একাধিক টিম হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের পর পরই এই মামলার এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামিকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মুকিত নামে যশোর বারের এক আইনজীবীর সহায়তায় ঘাতক শাহ মাহমুদ ভারতে পালানোর ছক করছিল। যা গোপন সংবাদে পুলিশ জানতে পারে। শুরু হয় পুলিশের কম্বিং অপারেশন। একপর্যায়ে গত রাতে যশোর শহরের একটি বাসা থেকে শাহ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশের একটি টিম। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা ও আইনজীবী মুকিতের সহায়তায় ভারতে পালানোর প্রক্রিয়ার কথা স্বীকার করেছে আটক শাহ মাহমুদ। এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজ আহমেদ গতকাল দুপুরে তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করে এই তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।
