দৌলতপুরে ‘পীর’ হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার ভয়ে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার ভয়ে লাম (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র আত্নহত্যা করেছে। গত শনিবার ঢাকার আশুলিয়ায় তার খালার বাসায় গলায় রশি দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। নিহত লাম দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে এবং পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লামের বড়ভাই আলিফকে ২৬শে এপ্রিল রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। বড়ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর হত্যা মামলার আসামি হওয়ার ভয়ে লাম ঢাকার আশুলিয়ায় তার খালা সীমা ও খালু কোরবান আলীর বাড়িতে পালিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানেও খালা খালু তাকে বকুনি দিয়ে ভয়ভীতি দেখালে ভয়ে শনিবার খালুর বাড়িতে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে রোববার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে রাত ১১টায় জানাজা শেষে ফিলিপনগর-ইসলামপুর কবরস্থানে লামের দাফন সম্পন্ন হয়। দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পীর শামীম নিহত হয়। ঘটনার সময় লাম ও তার বড়ভাই আলিফ দেখতে গেলে তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্লেষণ করে পুলিশ আলিফকে গ্রেপ্তার করে। আলিফ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বাবা-মা লামকে বকা-ঝকা করে খালার বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এর আগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ই এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ মানুষ পীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এ সময় রাজীব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দোতলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হত্যাকাণ্ডের ৩দিন পর ১৩ই এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়।

এরমধ্যে রাজীব মিস্ত্রি র‌্যাব’র অভিযানে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার হয়। পীর হত্যায় এজাহার নামীয় আসামি না হয়েও লামের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। একইসঙ্গে তারা নিরীহ সাধারণ জনগণকে হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন