ঘাটাইলে চেয়ারম্যানের বাসা থেকে নববধূর মরদেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য

ফন্ট সাইজ:

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নিখোঁজের ৩দিন পর সংগ্রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (বাবুর) ভাড়া বাসায় এক নববধূর মরদেহ উদ্ধার নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত নববধূ সূচনা উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের (দরপটল) আইনপুর গ্রামের সোহরাব আলীর মেয়ে। নিহতের পরিবার, এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের সত্তুরবাড়ি গ্রামের মো. সরোয়ার হোসেনের ছেলে সাওয়ালের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিহত সূচনার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাত্র একমাস আগে পাশের উপজেলা মধুপুরের আলোকদিয়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে মো. আলম মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয় সূচনার। কিন্তু প্রেমিক সাওয়াল কোনোভাবেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছিল না। নিহত সূচনার বাবা জানান, আমি সবজি বিক্রি করে সংসার চালাই ও মেয়েকে লেখাপড়া করিয়ে মাত্র এক মাস আগে ধারদেনা করে বিয়ে দেই।

গত ৫-৬ দিন আগে মেয়েকে স্বামীর বাড়ি থেকে জোরপূর্বক এনে সাওয়াল তার চাচা সংগ্রামপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবুর সহযোগিতায় তার নিজের বাসায় ২-৩ দিন আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ই মে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন সূচনা। পরে জানতে পারেন, প্রেমিক সাওয়াল (২০) একটি প্রাইভেটকারে করে সূচনাকে ঢাকায় নিয়ে গেছে। পরিবারের দাবি, নিখোঁজের তিনদিন পর সাওয়ালের চাচা গিয়াস উদ্দিন বাবুর ফোনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শনিবার রাতে ঘাটাইলের একটি ভাড়া বাসায় তাদের নিয়ে আসে।

পরে রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত ছিল। তবে তার আগেই ওই ঘর থেকে অচেতন অবস্থায় সূচনাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ওসি মো. মোকছেদুর রহমান জানান, আত্মহত্যার প্ররোচনায় একটি মামলা হচ্ছে। নিহতের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।



ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন