সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর উপর নির্মাণাধীন ৭৫০ মিটার দীর্ঘ ‘শাহ আরেফিন (রা.) অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতু’র ৫টি গার্ডার নদীতে ধসে পড়েছে। রোববার রাত প্রায় ১১টার দিকে ঝড়ের সময় এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রকল্পটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার পরপরই সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, পল্লী সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন একাধিক দফায় সময় বাড়িয়েও আট বছরেও কাজ শেষ করতে পারেনি। সেতুর মোট ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে এখনো ১৮টি গার্ডার ও পাঁচটি সø্যাবের কাজ বাকি রয়েছে। গত ৫ই আগস্টের পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কার্যত কাজ বন্ধ রেখে সাইট ত্যাগ করে। পরে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। বর্তমানে নতুন করে দরপত্র আহ্বান ও সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যেই মালামাল সরানোর সময় হঠাৎ করে একসঙ্গে ৫টি গার্ডার নদীতে ধসে পড়ে।
সরজমিন দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের কাজ অনেকটাই শেষ হলেও মাঝামাঝি অংশ এখনো অসম্পর্ণ। ধসে পড়া গার্ডারগুলো নদীতে পড়ে তলিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। মোদেরগাঁও গ্রামের বিএনপি নেতা সোবাহান সাদ্দার বলেন, দীর্ঘ আট বছর ধরে সেতুর কাজ ঝুলে আছে। সামান্য ঝড়ে এমন দুর্ঘটনা হওয়ার কথা নয়। চুক্তি বাতিলের খবরের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন মালামাল সরাতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। ঘটনার পর থেকে তাদের সেতু এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, এটি এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের সেতু। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও ধীরগতির কারণে আজ এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। গার্ডার ধসে পড়ায় সেতু নির্মাণ আরও পিছিয়ে গেল।
সুনামগঞ্জের এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যেই ৫টি গার্ডার ধসে পড়েছে। নতুন করে এসব গার্ডার নির্মাণে অতিরিক্ত সময় লাগবে। কেন এ ঘটনা ঘটেছে তা তদন্তে সিনিয়র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। তিনি আরও জানান, দ্রুত নতুন দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুনরায় সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
