বেইলি রোড ট্র্যাজেডিতে ৪৬ জনের মৃত্যু

হাক্কার আদিবের জামিন, নিহাদের আত্মসমর্পণের আবেদন প্রত্যাহার

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন হাক্কা ঢাকা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আদিব আলম। একই মামলার আসামি আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ আত্মসমর্পণের আবেদন করে পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালত এ আদেশ দেন।

সূত্র জানায়, গত ১৯শে এপ্রিল এই দুই আসামিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রোববার তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদিব আলমের পক্ষে আইনজীবী এডভোকেট হাদিউজ্জামান আদালতকে বলেন, বেইলি রোডের ভবনে থাকা হাক্কা ঢাকা রেস্টুরেন্টের মালিক তার মক্কেল নন। তার নামে তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুরে দু’টি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।

তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে এসেছেন এবং পলাতক হবেন না। অন্যদিকে নিহাদের পক্ষে আইনজীবী মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া বলেন, তার মক্কেল ভবনটির ডেভেলপার। ২০১৫ সালে ভবন হ্যান্ডওভার করা হয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্কতামূলক নোটিশও দেয়া হয়েছিল। ঘটনার সময় তিনি মালয়েশিয়ায় ছিলেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন।

তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। আসামিদের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টের গেট বন্ধ করে রাখার কারণে বহু মানুষ ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়ে মারা যান। এসময় আসামিপক্ষ জানায়, মামলার অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন। জবাবে রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, তারা কারাভোগের পর জামিন পেয়েছেন।
পরে আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় আগামী ১৯শে মে পর্যন্ত আদিব আলমের জামিন মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে নিহাদের বিষয়ে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে তার আইনজীবী আত্মসমর্পণের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।

গত ২রা এপ্রিল মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি। তদন্তে উঠে আসে, ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার পর প্রধান ফটক বন্ধ হয়ে যায়। বিল পরিশোধ ছাড়া কাউকে বের হতে না দেয়ার অনিয়মিত প্রথার কারণেই গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। এতে ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়ে বহু মানুষ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভবনটির নিচতলায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করা হয়েছিল। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে এসব সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছিল। অবহেলা ও অসাবধানতায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন