বিসিবি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবেন না হাইকোর্ট

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আগামী ৭ই জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন শোনেননি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিসিবি’র নির্বাচনী কার্যক্রমে তারা হস্তক্ষেপ করবেন না। রোববার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এমন মন্তব্য করেন।

এদিন, আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র এডভোকেট মহসীন রশিদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এদিকে বিসিবি’র পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান। পরে ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান বলেন, আদালত বলেছেন, আমরা বিসিবি নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবো না। এর আগে বিসিবি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট দায়ের করেছিলেন মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। এদিকে গত ১৬ই মে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবি’র ১১ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবি’র কর্মকর্তাসহ ১২ জন এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে রিট: এদিকে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের যাবতীয় কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি’ বা তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও ফাতেমার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার আদেশ দেয়ার কথা রয়েছে। এদিন রিটকারী আইনজীবী হিসেবে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এম কে রহমান ও রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মহসিন রশীদ বলেন, আদালত তাদের পিটিশনটিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তারিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানাতে অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চেয়েছেন বলে জানান তিনি। এদিকে, আইনজীবী এম কে রহমান বলেন, আমরা শুধু একটি ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি’ চেয়েছি।

ইউনূস সাহেবের আমলে যা কিছু ঘটেছে, তার একটি সুষ্ঠু তদন্ত আমরা চাই।
তদন্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশকে আমেরিকার দাসত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া, টিকা না কেনায় শিশুদের মৃত্যুর মতো যে অভিযোগগুলো উঠেছে, আমরা মূলত এগুলোর তদন্ত চেয়েছি। তবে আমরা কমিশনের কোনো ‘কার্যপরিধি’ বা টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) নির্দিষ্ট করে দিইনি। কমিশন কী কী বিষয়ে তদন্ত করবে, সেই টার্মস অব রেফারেন্স সরকারই নির্ধারণ করবে। আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, কোর্ট আমাদের বলেছেন যে, আমাদের পিটিশনটি বেশ বিস্তারিত (এক্সজস্টিভ) এবং আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (ভেরি ইম্পর্টেন্ট থিংস) সামনে এনেছি।

এই আইনজীবী আরও জানান, শুনানিকালে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল উপস্থিত ছিলেন। তিনি এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা (ইনস্ট্রাকশন) জেনে এসে আদালতকে জানাবেন বলে সময় চেয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে রিটকারী এই আইনজীবী বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব বলেছেন তিনি সরকারের কাছ থেকে জেনে আসবেন। এটি খুব ভালো উদ্যোগ। আমরাও চাই তিনি নির্দেশনা নিয়ে আসুন। এরপর সরকার যদি মনে করে যে, তারা কোনো তদন্ত করবে না, তবে দেশের জনগণ সেটা দেখবে। এখানে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না।

এদিকে, হামের টিকা নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক সব উপদেষ্টাসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে তদন্ত কমিটি গঠন ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্যের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এতে বিবাদী করা হয়েছে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদসচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন