বসতঘরে প্রবেশ করে প্রতিবন্ধী কিশোরীসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ করেছেন সদর উপজেলার হামরকোনা গ্রামের এক পরিবার। রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন শেখ ছালাম। প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাবা ভুক্তভোগী সিএনজিচালক শেখ ছালাম বলেন, একই এলাকার সন্ত্রাসী শেখ জুয়েল-এর ভয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নিজ ভিটেমাটিতে যেতে পারছেন না। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গেল রমজান মাসে সন্ত্রাসী শেখ জুয়েল তাকে স্থানীয় মসজিদে অন্যায়ভাবে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আপস-মীমাংসা করে দেন।
এরই জের ধরে তার প্রতিবন্ধী মেয়ে সালমা আক্তার (১৭) বাড়ির পুকুর ঘাটে কাজ করতে থাকা অবস্থায় ২২শে এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেখ জুয়েলের স্ত্রী আঁখি বেগম ও তার মা খয়রুন নেছা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী শেখ জুয়েল তাকে প্রাণে হত্যা করার উদ্দেশ্যে বসতঘরে প্রবেশ করে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। হামলায় ডান হাতের কব্জি বেশির ভাগ খণ্ডিত ও রক্তাক্ত জখম হয়। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। তার পরিধানের কাপড় ধরে টেনেহিঁচড়ে ও বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি ঘটায়। মেয়ের চিৎকার শুনে বাবা শেখ ছালাম মেয়েকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসলে তার অপর সহযোগী আক্কাছ মিয়া ছালামকে লক্ষ্য করে ডান হাতের কনুই এর কাছে রক্তাক্ত জখম করে।
একপর্যায়ে হামলাকারী শেখ জুয়েল ও তার সহযোগীরা বসতঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। এ সময় চিৎকার শুনে প্রতিবেশী লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আশঙ্কাজনক থাকায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসা গ্রহণ শেষে ২৫শে মে রিলিজ নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসী জুয়েলের ভয়ে হাসপাতাল থেকে নিজ বাড়িতে না গিয়ে তাদের আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নেন।
এ পর্যন্ত সন্ত্রাসী জুয়েলের ভয়ে বাড়িতে যেতে পারিনি। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালতে শেখ জুয়েলকে প্রধান আসামি করে দায়ের করেন। এদিকে সন্ত্রাসী জুয়েল কৌশলে উল্টো শেখ ছালাম ও তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে তার মাতা খয়রুন নেছাকে দিয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় গত ১লা মে ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করান।
অপরদিকে শেখ জুয়েলও নিজে মৌলভীবাজার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট-আদালতে ঘটনার ৩রা ও ৫ই মে ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী শেখ ছালাম সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি এ বিষয়ে তদন্ত করে শেখ জুয়েল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- শেখ ছালামের স্ত্রী শরুফা বেগম, মেয়ে সালমা আক্তার, নাঈমা আক্তার, শিশু ইমরান আহমদ।
