সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের মুঠোয়। গতকাল দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকরা ১৫৬ রানের লিড নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। হাতে অক্ষত আছে ৭ উইকেট। পাকিস্তানের আগুনে বোলিংয়ে ছাই হওয়া প্রথম ইনিংসে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলেছিলেন লিটন দাস। তবে তার সেঞ্চুরির পরও দলের সংগ্রহ ছিল মাত্র ২৭৮ রান- তাও সবক’টি উইকেট হারিয়ে। জবাবে বল হাতে সমান আধিপত্য ও অগুন ঝড়িয়েছেন টাইগার পেসাররাও। বিশেষ করে তরুণ গতি তারকা নাহিদ রানা নিজের আগুনে বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিয়েছেন। নিয়েছেন মূল্যবান ৩টি উইকেট। দিনের খেলা শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এই ফাস্ট বোলার।
নিজের বোলিং দর্শন পরিষ্কার করে রানা বলেন, ‘আসলে প্রত্যেকটা ব্যাটসম্যানকে আউট করতে মজা লাগে। কারণ প্রত্যেকটা উইকেটই আমার এবং টিমের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু আমার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকার চেষ্টা করি এবং দলকে সাহায্য করি।’ দেশের হয়ে ভালো কিছু করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন সামনে। বাংলাদেশের লিডের পেছনে লিটন কুমার দাসের চোখধাঁধানো সেঞ্চুরির অবদান সবচেয়ে বেশি। ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারানো দলকে ২৭৮ রান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার মূল কারিগর ছিলেন তিনিই।
রানার চোখেও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়া মুহূর্ত ছিল এটি। সতীর্থের বন্দনা করে তিনি বলেন, ‘আমি বলবো আমাদের টার্নিং পয়েন্ট ছিল লিটন দা’র ব্যাটিং। শতরান না হলে আমরা ব্যাকফুটে থাকতাম।’ অন্যদিকে নিজের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য এনে বাবরকে বোকা বানানোর কৌশলও গতকাল দারুণ কাজে দিয়েছে। ১৪৯ কিলোমিটার গতির পর হঠাৎ ১৪৪ কিলোমিটার গতির বল ছুড়ে তিনি এই তারকা ব্যাটারকে ফাঁদে ফেলেন। এই পেসারের মতে, বিশ্বের যেকোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারের বিপক্ষে এমন পরিবর্তন ভীষণ কার্যকর। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বস্তি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো ব্যাটসম্যানকে বোলিং করেন, আপনার পেস বা স্কিলে কিছু ভিন্নতা না আসলে ব্যাটসম্যানরা অস্বস্তি বোধ করে না। আমি জাস্ট চেষ্টা করছি, আলহামদুলিল্লাহ্ এক্সিকিউট হয়েছে।’
আগ্রাসী বোলিংয়ের পাশাপাশি মানসিকতাতেও পুরোপুরি ফাস্ট বোলার এই স্পিডস্টার। নিজের আগ্রাসী মনোভাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাকে কেউ বাউন্সার মারলে আমি তাকে ছেড়ে কথা বলবো না।’ সামনের দিনগুলোর রণকৌশল নিয়েও দল ইতিবাচক। নির্দিষ্ট রানের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে লম্বা সময় ক্রিজে টিকে থাকাই এখন দলের মূল কৌশল। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি করে উইকেট নিয়ে শক্ত ভিত্তি গড়েছেন। এখন ব্যাটারদের মূল দায়িত্ব সেই বড় সংগ্রহ দাঁড় করানো। আগামীকালের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে রানা বলেন, ‘কালকে আমরা সারাদিন ব্যাটিং করতে চাই। ব্যাটিং করে জয়ী রান হয়ে আমরা ডিফেন্ড করতে চাই।’
