সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ব্যাক-টু-ব্যাক ব্যাটিং বিপর্যয়ে কোণঠাসা পাকিস্তান ক্রিকেট দল। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজেদের ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করেন সফরকারী দলের ব্যাটিং স্তম্ভ বাবর আজম। ৬৮ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে বাবর দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানার বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। বাবর বলেন, তার ও সালমান আলী আগার আউট ম্যাচের পুরো গতিপথ বদলে দিয়েছে। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট জানিয়ে বাবর বলেন, ‘ম্যাচের আসল টার্নিং পয়েন্ট ছিল আমার এবং সালমান আলী আগার উইকেট দু’টি। আমরা দু’জনে যখন মাঝপথে খেলছিলাম, তখন চেষ্টা ছিল একটা বড় জুটি গড়ার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা বড় পার্টনারশিপ করতে পারিনি। আমরা আউট হওয়ার পরই ম্যাচের পুরো মোমেন্টাম বাংলাদেশের দিকে ঘুরে যায় এবং আমাদের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে।’
সিলেটের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল উল্লেখ করে বাবর বলেন, এখানে বল খুব সুন্দরভাবে ব্যাটে আসছিল। কিন্তু বোলারদের কৃতিত্ব দেয়ার চেয়ে নিজেদের আলগা শট খেলাকেই দায়ী করেছেন তিনি। বিশেষ করে বাংলাদেশের গতি তারকা নাহিদ রানার প্রশংসা ঝরেছে তার কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানা অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন বোলার। ওর প্রধান শক্তি হলো গতি এবং নিয়ন্ত্রণ। ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দিন দিন নিজেকে দারুণভাবে উন্নত করছে।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি দলেই এমন ১৪০-১৫০ গতিতে বল করা বোলার থাকে, ব্যাটার হিসেবে আমাদের সেটা সামলানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে।’ ব্যাটিং ধস ও বড় জুটি না হওয়ায় পাকিস্তানের অভিজ্ঞ এ ক্রিকেটার চিন্তিত। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং
ইউনিট হিসেবে আমাদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে এবং উইকেটে টিকে থাকার জন্য একটু কষ্ট করতে হবে। আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে- একটা উইকেট পড়ে গেলেই ব্যাক-টু-ব্যাক উইকেট পড়তে থাকে, যা থেকে আমরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারি না। এই মানসিক বাধা কাটানোর জন্য খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা নিজেদের মধ্যে নিয়মিত কথা বলছেন। বড় সেঞ্চুরি বা বড় স্কোর তখনই আসবে, যখন আমরা বড় জুটি গড়তে পারবো।
