ফরিদপুরে মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, পরকীয়া প্রেমিক গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

ফরিদপুরের চরমাধবদিয়ার মা-মেয়ে হত্যা মূল আসামিকে মাত্র দুইদিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। এ বিষয়ে রোববার দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিং-এ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম জানান, ১৪ই মে বিকালে ফরিদপুর সদর উপজেলার কালিতলা এলাকা থেকে মা জাহানারা বেগম ও কন্যাশিশু সামিয়া আক্তারের মৃতদেহ মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত জাহানারার পিতা লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। ১৬ই মে দুপুরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বকারটিলা এলাকা থেকে মো. উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জাহানারার পরকীয়া প্রেমিক জানিয়ে, মা ও মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের লাশ গুম করতে পুকুরপাড়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেয় হয় বলেও স্বীকার করে উজ্জ্বল।

অভিযুক্ত উজ্জ্বল খানের স্বীকারোক্তি অনুসারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, গত তিন বছর ধরে তার (উজ্জ¦ল) প্রেম ও পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল গোয়ালন্দ উপজেলার কর্নসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারার সঙ্গে। গত ৪ঠা মে বিকালের পর মেয়েকে নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে আসেন জাহানারা। এ সময় ওই নারী তাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়ার দাবি জানালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বুকে সজোরে ঘুষি মারলে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জাহানারা। পরে গলা চেপে শ্বাসরুদ্ধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে উজ্জ্বল।

এ সময় জাহানারার কোলে থাকা কন্যাশিশু কান্না করে উঠলে তাকেও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করতেই মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয় বলে স্বীকার করেছেন পরকীয়া প্রেমক উজ্জ্বল খান। সংবাদ সম্মেলনে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আব্দুল্লাহ বিশ্বাস, ইন্সপেক্টর ইন্সপেক্টর মো. মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। উল্লখ্য, গত শুক্রবার রাতে জেলার সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ে মাটিচাপা অবস্থায় হয় মা জাহানারা বেগম ও কন্যাশিশু সামিয়া আক্তারের মৃতদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন