চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি মো. রাব্বীকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকালে ঢাকার শাহবাগ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ৩০শে এপ্রিল রাতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার পর রাব্বীকে খুঁজছিলো পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী- দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার পর ঢাকায় পালিয়ে যায় রাব্বী। সেখানে এক বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নেয়। এর আগেও একবার তাকে ধরতে গিয়ে ব্যর্থ হয় পুলিশের একটি দল। তবে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, রাব্বীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়ার একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাসেল কবির।
তিনি জানতে পারেন রাব্বীসহ তার সহযোগীরা ঢাকার শাহবাগ এলাকায় অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গত শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে শাহবাগ এলাকার মৎস্য ভবন মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সঙ্গে থাকা তার দুই সহযোগী সোহেল ওরফে জিনজিরা সোহেল ও সুনিতকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর গাড়িতে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে আসার পথেই পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বিস্ফোরক ও মাদক থাকার তথ্য দেয় রাব্বী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌঁছে রাত ১১টার দিকে রাব্বীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে যায় পুলিশ।
ওসি আরও বলেন, বারঘরিয়া ইউনিয়নের নীল কুঠির মাঠ এলাকায় বারঘরিয়া-গোয়ালবাড়ি সড়কের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে যায় পুলিশ সদস্যরা। সেখান থেকে তিনটি পলিথিন ব্যাগে রাখা দুই কেজি বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু (গান পাউডার) ও দুইটি পলিব্যাগে ১৫০ গ্রাম হেরোইন সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বস্তুগুলো পরীক্ষা করে দেখা হবে। তবে রাব্বী এগুলো বিস্ফোরক ও মাদক বলেই দাবি করেছে। ওই পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে রাব্বী নিজ হাতে সেগুলো বের করে দেয়। প্রসঙ্গত, ৩০শে এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বাতেন খাঁর মোড়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হোন চ্যানেল ওয়ানের প্রতিনিধি তারেক রহমান ও মাই টিভির প্রতিনিধি তারেক আজিজ।
ওই রাতেই সদর মডেল থানায় পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. রাব্বী ও সোহেলের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর রাব্বীকে গ্রেপ্তার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর ও চার উপজেলায় একযোগে প্রতিবাদ করে সাংবাদিকরা।
