দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে চায় বিএনপি

স্থানীয় নির্বাচন

দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে চায় বিএনপি

ফন্ট সাইজ:

স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে চায় বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে চায় দলটি। কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যে তৃণমূলে এই বার্তা দেয়া হয়েছে। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সৎ এবং যোগ্য নেতাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে দলটি। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এলাকায় জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি। এর বাইরে কাউকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না। ওদিকে সম্প্রতি বিএনপি এবং এর তিন সংগঠনের মতবিনিময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুব দ্রুতই হবে বলে নেতাদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এসব নির্বাচনে নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে পাস করতে হবে, দল থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করা হবে না। এমন তথ্য দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান দলের নেতাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, জনপ্রিয় নেতাদের দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলেও সভায় জানিয়েছেন তারেক রহমান।

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নবঞ্চিতদের অনেকেই উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনোনয়ন পেলেও স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রিয় ও ত্যাগীদের মূল্যায়নের কথা ভাবছে বিএনপি।

সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। এরআগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত ধাপে ধাপে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ সব স্তরের নির্বাচন শেষ করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। আর অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। দলীয় একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষদিকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হতে পারে।
এদিকে আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে বলেও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ওদিকে দলের নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় বিভিন্ন পোস্টার ও ব্যানার টানাচ্ছেন। এলাকায় বিভিন্ন গণসংযোগ ও সভা করছে। যদিও নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে চলতি বছরের নভেম্বর কিংবা থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে।

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল যদি বিরোধীদের হাতে চলে যায়, তা সরকারের জন্য ভালো হবে না। এই সুযোগ কাজে লাগাবে বিরোধী দল। স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিরতা তৈরি হলে সরকারের জনপ্রিয়তা কমে যাবে। সেটা একটি সরকারের জন্য কখনোই ভালো হবে না। এজন্য ফলাফল নিজেদের ঘরে আনতে হবে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য আগে নিজেদের ঘর ঠিক করতে হবে। কারণ ইতিমধ্যে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের কোন্দল ও বিভেদ তৈরি হয়েছে। এর আগেও জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি’র অনেক নেতা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেছেন। ফলে বেশকিছু আসন বিএনপি’র হাতছাড়া হয়েছে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই দলীয় কোন্দল ও বিভেদ দূর করতে হবে। অন্যথায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দলকে ভুগতে হবে।

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মানবজমিনকে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে যারা কাজ করেছেন, তাদের দল বিবেচনা করবে। এলাকায় যাদের জনপ্রিয়তা আছে, তাদেরকেই মূল্যায়ন করা হবে। এর বাইরে কাউকে দেয়া হবে না। আর সংরক্ষিত নারী আসনে বঞ্চিত হওয়ার পরিমাণ কম হয়েছে, বরং রাজপথে যারা ছিলেন- তাদের মধ্যে অধিকাংশ মনোনয়ন পেয়েছেন। হয়তো কিছু এদিক সেদিক হয়েছে। শতভাগ তো আর কখনো হয় না। অনেকাংশে সংগ্রামী নারী নেত্রীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এটা নিয়ে তৃণমূলের তেমন হতাশা নেই।

Mamun Hazari

২ মাস আগে

আওয়ামীলীগ এর সময় উপজেলা চেয়ারম্যান 5 কোটি, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান 1 কোটি এবং মেম্বার 10 লাখে বিক্রি হতো তাই এই ধরনের পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চাই না।

মন্তব্য করুন