দুই প্রার্থীর এজেন্ডা কি?

সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচন

দুই প্রার্থীর এজেন্ডা কি?

ফন্ট সাইজ:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত দুইজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ কূটনীতিকের মধ্যে একটি তুলনামূলক প্রতিযোগিতার প্রতিফলন ঘটেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি আন্দ্রেয়াস কাকৌরিস উভয় প্রার্থীরই সমৃদ্ধ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে তাদের পেশাগত যাত্রাপথ ভিন্ন ধরনের বিশেষায়ন এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার নেতৃত্ব সম্পর্কে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

খলিলুর রহমানের কর্মজীবন গভীরভাবে জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং জাতিসংঘ সচিবালয় ব্যবস্থায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা। এই দ্বৈত অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি একদিকে কূটনৈতিক দরকষাকষির অভিজ্ঞতা পদান করেছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত কাঠামো সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ জ্ঞান দিয়েছে। সাধারণ পরিষদের ১৬টি অধিবেশনে অংশগ্রহণ তার দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতি, জোট গঠন ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় আলোচনার পরিবর্তনশীল গতিশীলতা সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতার পরিচয় বহন করে।

খলিলুর রহমানের প্রোফাইলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উন্নয়নসংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে তার বিশেষ দক্ষতা। বিশেষত স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে। এই রাষ্ট্রসমূহ জাতিসংঘ সদস্যপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অংশ। বর্তমান জাতিসংঘ বাস্তবতায়-যেখানে টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু ঝুঁকি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ঋণ পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিতর্ক কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে-সেখানে তার অভিজ্ঞতা গ্লোবাল সাউথের অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়। ফলে তার প্রার্থিতা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাজনৈতিক ও নীতিগতভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, আন্দ্রেয়াস কাকৌরিস তুলনামূলকভাবে একটি বিস্তৃত ও ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক প্রোফাইল নিয়ে আসেন, যা প্রধানত দ্বিপক্ষীয় কূটনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। তার কর্মজীবন চার দশকেরও বেশি সময় জুড়ে বিস্তৃত এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও সুইডেনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেশে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ে পার্মানেন্ট সেক্রেটারি ও স্টেট সেক্রেটারিসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বমূলক পদে কাজ করেছেন। যা তাকে সরকারি প্রশাসন ও বৈদেশিক নীতি সমন্বয়ে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

কাকৌরিসের যোগ্যতা ঐতিহ্যগত কূটনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক পরিচালনায় তার শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরে। কমনওয়েলথে আলোচনায় এবং নন-অ্যালাইন্ড মুভমেন্টের পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় তার সম্পৃক্ততা বহুপক্ষীয় কাঠামো ও ঐকমত্যভিত্তিক কূটনীতি সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতার পরিচয় দেয়। তবে খলিলুর রহমানের তুলনায় তার অভিজ্ঞতা অধিকতর রাষ্ট্রকেন্দ্রিক এবং জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে অবস্থিত বলে প্রতীয়মান হয়।

অতএব, দুই প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্য দক্ষতার ঘাটতিতে নয়, বরং তাদের বিশেষায়নের প্রকৃতিতে। কাকৌরিস এমন একজন অভিজ্ঞ পেশাদার কূটনীতিকের প্রতিচ্ছবি, যার বিস্তৃত রাষ্ট্রদূতীয় অভিজ্ঞতা এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রশাসনিক দক্ষতা রয়েছে। অন্যদিকে, খলিলুর রহমান বহুপক্ষীয় কূটনীতি, জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং উন্নয়নভিত্তিক আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একজন কূটনীতিকের প্রতিনিধিত্ব করেন। যেহেতু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা, প্রক্রিয়াগত পরিচালনা, এজেন্ডা ব্যবস্থাপনা এবং ঐকমত্য গঠনের ওপর নির্ভরশীল, তাই জাতিসংঘ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তদুপরি, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এমন একজন প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দিতে পারে, যার অভিজ্ঞতা বহুপক্ষীয় সংস্কার এবং উন্নয়ন-সংক্রান্ত বৈশ্বিক উদ্বেগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। আজকের জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে বৈধতা সংকট, পরাশক্তিগুলোর মধ্যে মেরূকরণ, অর্থায়ন সংকট এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিক প্রতিনিধিত্ব ও কার্যকরতার দাবির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। “কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক বহুপক্ষীকতা”র ওপর খলিলুর রহমানের জোর এই উদ্বেগগুলোর সরাসরি প্রতিফলন এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন নিয়ে চলমান বিতর্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সুতরাং, যদিও আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের বিস্তৃত দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারি প্রশাসনিক নেতৃত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী, তবুও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে প্রয়োযজনীয় যোগ্যতার বিচারে খলিলুর রহমান তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছেন।

এদিকে জাতিসংঘে দাখিলকৃত এই দুই প্রার্থীর মিশন স্টেটমেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খলিলুর রহমান এবং আন্দ্রেয়াস কাকৌরিস বর্তমান জাতিসংঘ ব্যবস্থার সংকট ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে আংশিক মিল থাকলেও মূলত দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। উভয় প্রার্থীই স্বীকার করেছেন যে ভূরাজনৈতিক বিভাজন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা, জলবায়ু সংকট, বৈষম্য এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চাপে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা আজ গভীর সংকটের মুখোমুখি। তবে তাদের ভাষা, অগ্রাধিকার ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে, যা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা প্রতিফলিত করে।

আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের ভিশন মূলত প্রাতিষ্ঠানিক, প্রশাসনিক এবং প্রক্রিয়াভিত্তিক। তার মূল ধারণা হলো “প্র্যাকটিক্যাল মাল্টিলেটারালিজম” বা বাস্তবমুখী বহুপক্ষীয়তা, যার লক্ষ্য হচ্ছে জাতিসংঘ ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন, কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ পরিষদের বাস্তবায়ন সক্ষমতা শক্তিশালী করা। তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে জবাবদিহিতা, দক্ষতা, পরিমাপযোগ্য ফলাফল, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং জাতিসংঘের কাজের পুনর্গঠন।

কাকৌরিস জাতিসংঘকে মূলত “রুলস- বেইজড ইন্টারন্যাশনাল অর্ডার” বা নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি স্থিতিশীলতাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখেন। তার বক্তব্যে জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রসমূহের সার্বভৌম সমতা এবং আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তার দৃষ্টিভঙ্গি সতর্ক, বাস্তববাদী এবং মধ্যপন্থি। তিনি বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা না বলে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার ওপর জোর দেন। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্র নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা উন্নয়ন অর্থায়নের মতো বিষয়েও তার অবস্থান মূলত সমন্বয়, ধারাবাহিকতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পক্ষে।

এই কারণে কাকৌরিসের ভিশন বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে সেইসব রাষ্ট্রের কাছে, যারা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, প্রক্রিয়াগত নিরপেক্ষতা এবং ধীরগতির সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেয়। আর্থিক সংকটের সময় জাতিসংঘের ওপর “নতুন বাধ্যবাধকতা” চাপিয়ে না দেয়ার আহ্বান তার সতর্ক ও ব্যবস্থাপনাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
অন্যদিকে, খলিলুর রহমানের ভিশন তুলনামূলকভাবে বেশি রাজনৈতিক, উন্নয়নমুখী এবং রূপান্তরমূলক। যদিও তিনিও কার্যকর বহুপাক্ষিকতার কথা বলেছেন, তার মূল উদ্বেগ কেবল প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা নয়; বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বৈধতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সবার জন্য কার্যকর হওয়া। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা পুনর্গঠনের জন্য “বাস্তব সুফল” নিশ্চিত করার ওপর তার জোর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বৈষম্য এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর হতাশার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

খলিলুর রহমানের দীর্ঘ উন্নয়ন কূটনীতির অভিজ্ঞতা তার দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। স্বল্পোন্নত দেশ স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র-এর সঙ্গে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা তাকে এমন একটি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে দাঁড় করিয়েছে, যা কেবল বর্তমান কাঠামো পরিচালনা করবে না, বরং বৈশ্বিক বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করবে। তার দৃষ্টিতে জাতিসংঘের বৈধতা সংকটের মূল কারণ শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়; বরং উন্নয়নশীল বিশ্বের কাছে এই ধারণা যে বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ন্যায়বিচার, প্রতিনিধিত্ব এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
আজকের বৈশ্বিক বাস্তবতায় এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে জাতিসংঘকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলো হচ্ছে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার, প্রতিনিধিত্বের বৈষম্য, জলবায়ু ন্যায়বিচার, ঋণ সংকট এবং উন্নয়ন অর্থায়নের প্রশ্নে। উন্নয়নশীল বিশ্বের বহু রাষ্ট্র এমন একটি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা চায়, যা শুধু কার্যকরই নয়, বরং অধিক ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। এই প্রেক্ষাপটে খলিলুর রহমানের ভিশন বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো ভাষা ও রাজনৈতিক টোনে। কাকৌরিসের বক্তব্য অত্যন্ত কাঠামোগত, প্রশাসনিক এবং নীতিনির্ধারণমূলক; এটি অনেকটা একটি “গভর্নেন্স রোডম্যাপ”-এর মতো। বিপরীতে, খলিলুর রহমানের বক্তব্যে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নৈতিক আবেদন রয়েছে, যেখানে বহুপাক্ষিকতাকে আরও ন্যায়সঙ্গত, প্রতিনিধিত্বমূলক এবং মানুষের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করার আহ্বান রয়েছে।
বিশ্লেষণাত্মকভাবে বলা যায়, কাকৌরিস বিদ্যমান বহুপক্ষীয় কাঠামোর ভেতরে প্রশাসনিক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন আর খলিলুর রহমান বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ ও বৈধতা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। উভয় দৃষ্টিভঙ্গিরই গুরুত্ব রয়েছে, তবে তারা জাতিসংঘের বর্তমান সংকটের ভিন্ন ভিন্ন দিককে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায়-
যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, এবং যেখানে বৈশ্বিক ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও সমতার দাবি জোরালো হচ্ছে- সেখানে খলিলুর রহমানের ভিশন তুলনামূলকভাবে বেশি সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হচ্ছে। তার উন্নয়নমুখী বহুপাক্ষিকতা, বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা পুনর্গঠনের ওপর জোর আজকের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ, বিশেষত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্লোবাল সাউথ রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে।

তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা এবং নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা রক্ষার প্রশ্নে কাকৌরিসের দৃষ্টিভঙ্গিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত এই দুই ভিশনের মধ্যে পছন্দের প্রশ্নটি মূলত জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বৃহত্তর বিতর্ককে সামনে আনে-জাতিসংঘ কি মূলত প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে টিকে থাকবে, নাকি বৈশ্বিক ন্যায়, অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে নতুন বৈধতা অর্জন করবে। আগামী ২রা জুন সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে মূলত এই দুইয়ের যেকোনো একটিকেই বেছে নিবে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন